- হার্ট এ্যটাকে এক রোগীর মৃত্যু, বেশ কয়েকজন আহত
- মালামাল লুট-তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ওয়ার্ডের ১৫টি বেডসহ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া আগুন থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা আহতসহ তাদের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
অপরদিকে আগুন লাগার সময় আতংকিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রহিমা বেগম (৭৫) হৃদযন্ত্রের ত্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয়তলাস্থ ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল সোয়া ১০ টার দিকে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক মানসিক রোগী তার বেডের তোষকে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা অন্যান্য বেডে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুরো ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ হাসপাতালে প্রচন্ড ধোঁয়ার কুন্ডলীতে ভরে যায়। আগুন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি কক্ষেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বেশ কয়েকটি বেড পুড়ে যায়। সেই সঙ্গে চারটি কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৭নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স আসমা বেগম ও ব্রাদার সহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তারা ওয়ার্ডেই দায়িত্বরত ছিলেন। হঠাৎ করে আগুনের প্রচন্ড ধোঁয়ার কুন্ডলীতে পুরো ওয়ার্ড অন্ধকারে ছেয়ে যায়। তাৎক্ষনিক ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রæত ওয়ার্ড ত্যাগ করতে আহবান জানানো হয়। হুড়াহুড়ি করে তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন আহত হয়।
১২ নম্বর বেডের রোগী আসলাম জানান, তার পাশের ১০ থেকে ১২ বছরের এক মানসিক রোগী দেয়াশলাই দিয়ে তার বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অগুন অন্যান্য বেডসহ পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পুরো হাসপাতালে ভর্তি এক হাজারের বেশী রোগী ও তাদের স্বজনরা আতংকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে স্বজনরাসহ তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসার পর ওয়ার্ডে ফিরে এসে তারা তাদের কাপড়সহ অন্যান্য মালামাল খুঁজে পাননি।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখনও প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। প্রচন্ড ধোঁয়ার কুন্ডলীর কারণে রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় হাসপাতাল থেকে তাদের নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে আগুন লাগা ৭ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। ঘটনার সময় হৃদযন্ত্রের ত্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগী মারা যাওয়ার বিষযটি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। তবে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সোয়া এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে তাৎক্ষণিক আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি, তদন্তের পর বিষয়টি পরিস্কার হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









