শাহাদাত হোসেন পেশায় একজন কাভার্ডভ্যান চালক। একবছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর তাকে ধরতে হয় সংসারের হাল। মা ও ছোট ভাইয়ের মুখের অন্ন যোগাতে সেই ছিলো আয়ের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু ভয়াল সীতাকুন্ড ট্রাজেডি (বিএম ডিপোর বিষ্পোরণ ও অগ্নিকান্ড) কেড়ে নেয় পরিবারের একমাত্র অবলম্বন শাহাদাতের জীবন।
প্রতিদিনকার মতো ৪জুন কাভার্ডভ্যান নিয়ে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রবেশ করে শাহাদাত। পণ্য আনলোডের জন্য অপেক্ষা করা হলো তার জন্য কাল। সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে কেমিক্যাল কন্টেইনারে লাগা আগুন ও বিষ্পোরণে দগ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে সেখানেই নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ। চমেকের ১৯ নং ওয়ার্ডে তার মৃতদেহ সনাক্ত করা হয়। বাড়ি থেকে তরতাজা যুবক বের হলেও শাহাদাৎ এখন পোড়া লাশ।
বছরখানেক আগে স্বামীকে হারানোর শোক না কাটতেই পরিবারের বড় ছেলে শাহাদাতকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল শাতাদাতের মা। এখন শাহাদাতের বাড়িতে শুধু শোকের মাতম। বিয়ে হয়ে যাওয়া দুই বোনের কান্নায় যেন ভেঙে পড়ছে আকাশ। শাহাদাতের মৃত্যুতে সমগ্র এলাকায় নামে শোকের ছায়া।
নিহত শাহাদাত উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের ননাই মিয়া মীর বাড়ির মৃত মো. শাহ আলমের ছেলে।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীনুর জানান, শাহাদাত পেশায় কাভার্ডভ্যান চালাতো। তার ইনকামেই চলতো ৩ সদস্যের পরিবার। এ পরিবারে এখন আর আয় করার কেউ রইলো না। তার ছোট ভাই আমজাদ জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। তার পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয় সেদিকে আমাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শাহাদাত জোরারগঞ্জের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার মৃত শাহ আলমের সন্তান। আমি তার শোকাবহ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার করার চেষ্টা করবো।









