নরসিংদীর ৬ উপজেলায় ৬টিসহ মোট ৭টি দৃষ্টিনন্দিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২টি মসজিদের কাজ শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ২টি মসজিদ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবীদার। এ মসজিদগুলি চালু হলে একদিকে যেমন মুসল্লিরা একসঙ্গে বড় জামাতে নামাজ পড়তে পারবে অন্যদিকে, এখানকার লাইব্রেরি থেকে ইসলামের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে তরুণ ও যুবকরা। এতে যুবকদের মাঝে অপরাধ প্রবণতাও কমবে বলে মনে করছেন তারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগের সূত্র জানায়, প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নরসিংদীতে নির্মিত হচ্ছে ৭টি দৃষ্টিনন্দিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নির্মাণ কাজ করছেন নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগ। এর মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলা ও মনোহরদী উপজেলার মডেল মসজিদের নির্মান কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া রায়পুরা, শিবপুর, পলাশ ও বেলাব উপজেলার মডেল মসজিদের নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত জায়গা নির্ধারিত না হওয়ায় জেলা মডেল মসজিদের নির্মান কাজ শুরু করা হয়নি। উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ গুলোতে থাকছে ৯শতাধিক মানুষের নামাজের ব্যবস্থা, মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা, মেহমানখানা, লাইব্রেরি, মক্তব, ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্র, মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থাসহ হজ্ব নিবন্ধনের ব্যবস্থা। জেলা মডেল মসজিদে ১২শতাধিক মানুষের নামাজের জায়গাসহ থাকছে অন্যান্য সকল সুবিধা। নির্মিত ২টিসহ জেলার ৭টি মসজিদই দ্রুত নির্মাণ করে মুসল্লিদের নামাজ ও ইসলামিক গবেষণা করার সুযোগ করে দেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
স্থানীয় মুসল্লি ও প্রবীন সাংবাদিক নুরুল ইসলাম বলেন, দৃষ্টিনন্দিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ হলে মুসল্লিরা একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবে। যেহেতু মসজিদের পাশাপাশি ইসলামী লাইব্রেরি থাকবে সেখান থেকে তরুণরা ইসলামের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। নবীজির জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে।
স্থানীয় মুসল্লি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ হলে এ এলাকার মুসল্লিদের সবচেয়ে উপকার হবে। বড় জামাত হবে, ইসলামী পুস্তক থেকে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে। এ মসজিদের একটি ব্যতিক্রম বিষয় হলো নারীদের জন্য মসজিদের ভিতরে নামাজ পড়ার স্থান রয়েছে। যা বর্তমানের কোনো মসজিদের নেই। আরো একটি বিষয় হলো নতুন প্রজম্মের ছেলেরা দৃষ্টিনন্দিত মসজিদ দেখার ছলে হলেও নামাজ পড়ার প্রতি আগ্রাহ বাড়বে।
নরসিংদী ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর উপ পরিচালক আবুল কাশেম আনন্দ বাজারকে বলেন, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারই প্রথম এমন উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে একই মসজিদে সব ধরণের ব্যবস্থা থাকছে। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস, মুসল্লিদের নামাজের স্থান, মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা, মেহমানখানা, লাইব্রেরি, মক্তব, ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্র, মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থাসহ হজ্ব নিবন্ধনের ব্যবস্থা। এই সকল বাস্তবায়িত হলো সমাজ থেকে অসংস্কৃতি ধংশ হবে। প্রকৃতি ইসলামের সেবা এই মসজিদ থেকে সবাই পাবে।
নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন আনন্দ বাজারকে বলেন, চলতি বছর জুন মাসে মনোহরদী ও নরসিংদী সদরের ২টি মডেল মসজিদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকিগুলো ২০২৪সালে নির্মান কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নরসিংদী জেলার ৭ মডেল মসজিদের জন্য প্রকল্প ব্যয় হবে ১শত ১০ কোটি প্রায়।








