ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে চালু হবে বিশেষ বুলেট ট্রেন। আর বুলেট ট্রেনটি চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৫৫ মিনিট। বুলেট ট্রেনের সমীক্ষা প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ। একই বছরের ৩১ মে চুক্তি হয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। সম্প্রতি সমীক্ষাটি শেষ হয়েছে। তাই তৈরি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা।
প্রস্তাবিত দ্রুতগতির রেলপথটি হবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মধ্য দিয়ে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা বা লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হাইস্পিড রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। রেলপথটি কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে সহজ হয়ে যাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতও।
বুলেট ট্রেনের সমীক্ষা প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১০০ কোটি ৬৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল ২০১৭ সালের ০১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে। তবে ডলারের দাম ও পরামর্শক খাতে ব্যয় বৃ্দ্ধির কারণে পিছিয়ে যায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রকল্প। সমীক্ষা প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এখন মূল প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
সমীক্ষা প্রকল্পে পরামর্শক সেবা বাবদ মোট ব্যয় ছিল ৯৭ কোটি ৪১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তখন বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ১ মার্কিন ডলার সমান ৭৮ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ১ মার্কিন ডলার ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা খরচ করে কিনতে হয়েছে। ফলে এই খাতে অতিরিক্ত ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে সার্বিকভাবে সমীক্ষা প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই টাকা সমন্বয় করতে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক মাস বাড়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন (চীন) এবং মজুমদার এন্টারপ্রাইজ (বাংলাদেশ) যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ করেছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অবকাঠামোর বিশদ ডিজাইন প্রণয়ন, দরপত্র দলিলাদি প্রস্তুতকরণ, নতুন রেললাইন পরিচালন প্রক্রিয়া নির্ধারণ, প্রাথমিক পরিবেশ পরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনাও চলমান। আগামী জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজও শেষ হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন জানান, ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে এসে নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশনের প্রতিনিধিরা। এরপর ব্যায়ের বিষয়টি নির্ধারণ করে অনুমোদনের জন্য একনেকে যাবে প্রকল্পটি। অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হবে কাজ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বুলেট ট্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। আর দিনে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। এর জন্য একজন যাত্রীকে ভাড়া গুণতে হবে ২ হাজার টাকার মতো।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









