আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। হাতে খুব বেশী সময় না থাকলেও অনেকটা নিরুত্তাপ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা। এর কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে নির্বাচনের আইন সংশোধন। গত নির্বাচনের মতো এবার আর উপজেলা থেকে ৩ জন সদস্য হতে পারবেন না। এবার পুরো উপজেলা থেকে মাত্র ১ জন সদস্য নির্বাচিত হবে। আর ৩ উপজেলা নিয়ে একজন হবে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। এবার চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।
চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা পরিষদ শাখা এর ১৮.০৪.২০২২ খ্রি., জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ধারা ৪ এর উপ ধারা (১) অনুযায়ী [ জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০২২ অনুযায়ী সংশোধীত] এবং জেলা পরিষদ (ওয়ার্ডের সীমা নির্ধারণ) বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৪,৫ ও ৬ অনুসারে চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলাকে ৮টি ওয়ার্ড এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিভক্ত করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। উক্ত বিধিমালার আলোকে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে মাত্র একজন সদস্য নির্বাচিত হবেন। আর চাঁদপুর সদর, হামইচর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষণা হয়ে গেছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের। তবে, এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ নেই। জ¦ালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সমূহের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ অনেকটা দিশাহীন। নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে আছে টেনশন। সংসার চালানোই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতে মানুষের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই।
নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজনের নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন আলোচনার টেবিলে শোনা গেলেও বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। সদ্যসাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন তার ফেইসবুকে নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন আড্ডায় এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের যে সব নাম উঠে আসছে তারা হলেন- জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক সদস্য মো. মশিউর রহমান মিটু, সদ্য সাবেক সদস্য রফিক তালুকদারের ভাই খোকন তালুকদার, নজরুল ইসলাম সুমন, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, আলী আক্কাস, মো. জামাল উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন মল্লিক। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে পুনরায় নির্বাচন করবেন জোবেদা খাতুন খুশি।
নির্বাচন বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘আমরা এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবোনা। আপনারা দেখছেন আমরা এখন আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আমরা কেন্দ্রের নির্দেশের বাহিরে কিছুই করবো না।’
গত সেশনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩,৪,৫,৬,৭ ও ৮ নং ইউনিয়ন নিয়ে ছিলো মশিউর রহমান মিটুর ওয়ার্ডসীমা। সাইফুল ইসলাম রিপনের ছিলো ১১, ১২, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা, ১৪, ১৫ ও ১৬নং ইউনিয়ন।
রফিক তালুকদারের ওয়ার্ডসীমা ছিলো ফরিদগঞ্জের ১,২,৯,১০ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন। আর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ছিলো জুবায়দা খাতুন খুশি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ১৯-২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২-২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্ধ ২৬ সেপ্টেম্বর, ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।
ভোট গ্রহণের সময় সকাল ৯টা থেকে টানা বেলা ২টা পর্যন্ত। এবার চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে। রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক। সহকারী রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসার।
আনন্দবাজার/শহক









