- বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, পৌর ভবন, শিশুপার্ক নির্মাণে প্রাধান্য
- লাখ টাকার উন্নয়নমুখী বাজেট ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরীসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণ, বীর শহীদদের নামে রাস্তার নামকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং নতুন করে করারোপ ছাড়াই নীলফামারীর প্রথম শ্রেণীর সৈয়দপুর পৌরসভা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ১৭১ কোটি ২৮ লাখ ৪ হাজার ১৮২ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দপুর পৌরসভার কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে এ বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র রাফিকা আকতার জাহান। এটি তার তথা পৌরসভার দশম পরিষদের দ্বিতীয় বাজেট। অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাজেট সম্পর্কিত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
বাজেটে পৌরকর ও রেট থেকে আয় দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকা ৬০ লাখ, বেতন-ভাতা খাতে সরকারি অনুদান ১ কোটি ৮২ লাখ টাকাসহ ৪৩ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৬৪ টাকা। এছাড়া নবনির্মিত সুপার মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দের সেলামী বাবদ ৫ কোটি, ফি বাবদ ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩৮ হাজার, ভাড়া থেকে ৩ কোটি ৮১ লাখ, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ২ কোটি ৫০ লাখসহ অন্যান্য খাত থেকে সম্ভাব্য মোট আয় ধরা হয়েছে ১৭১ কোটি ২৮ লাখ ৪ হাজার ১৮২ টাকা।
এর মধ্যে উন্নয়ন আয়ের খাতগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো সরকার প্রদত্ত সহায়তা মঞ্জুরি ৪ কোটি, অফিস ভবন নির্মাণে সরকারি অনুদান ১ কোটি, এমজিএসপি কর্তৃক প্রকল্প কাজের মঞ্জুরী ৮১ কোটি, আইইউআইডিপি প্রকল্প থেকে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা।
বরাবরের মত এবারও পৌর ভবন, শিশুপার্ক, কসাইখানা, সড়ক নির্মাণ, নর্দমা তৈরি, দুস্থদের মধ্যে অনুদান, শিক্ষাবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় বীর শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সড়কে ফলক স্থাপনের জন্য সমপরিমাণ ব্যয় দেখানো হয়েছে ওই খাতে।
বাজেট অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোখছেদুল মোমিন। অন্যদের উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, পৌর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, মহিলা এমপি রাবেয়া আলিমের ছেলে পেট্রো মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার একেএম রাশেদুজ্জামান, সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাকির হোসেন বাদল।
বাজেটের উদ্বোধনী ও সমাপনী বক্তব্যে পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বলেন, সৈয়দপুরকে সিটি কর্পোরেশন করা সম্ভব না হলেও সেই মানের সেবা দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ইতিমধ্যে বহুতল অত্যাধুনিক পৌর কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। পৌর সুপার মার্কেটের কাজও এগিয়ে চলছে। একতলা শেষ, বাকি কাজ চলতি অর্থবছরেই সম্পূর্ণ করা হবে।
তিনি বলেন, এখন আমাদের মূল টার্গেট পৌরসভার নিজস্ব অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ এবং একটি শিশুপার্ক স্থাপন। এজন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আর বঙ্গবন্ধু সড়কে ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন জায়গায় পানি শোধনাগার ও ডাস্ট ডাম্পিং প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণসহ প্রায় ২২টি বৃহৎপ্রকল্প ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ। এজন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নামে রাস্তার নামকরণসহ প্রতিটি মোড়ে তাদের ছবি সম্বলিত নামফলক নির্মাণ করা হবে।









