বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রাঙ্গামাটির বাপ্পী তনচংগ্যা। কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান খাঁচায় শুরু করেন তার মাছ চাষের যাত্রা। তাকে এই কাজে সার্বিক সহায়তা করছে বিএফআরআই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাঁচায় মাছ চাষের ফলে উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি বেকারত্বও অনেক কমে আসবে।
রাঙ্গামাটির সদর উপজেলার মানিকছড়ি পাড়ামুখ এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করেন বাপ্পী তনচংগ্যা। এ বছরের জুলাইয়ের শুরুতে তিনি হ্রদে ভাসমান ৩২টি খাঁচায় ৫৩ হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন। এতে তার এককালীন খরচ করতে হয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এছাড়া মৌসুমভিত্তিক বিনিয়োগ করতে হবে আরও ৭ লাখ টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে তার উৎপাদিত মাছের মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা। এতে যাবতীয় ব্যয় মিটিয়ে ৬-৭ লাখ টাকা লাভ থাকার আশা করছেন বাপ্পী।
এই ব্যাপারে মৎস্যচাষী বাপ্পী তনচংগ্যা জানান, আমি সফলতা পেলে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি করব, এতে স্থানীয় বেকার যুবকদেরও অনেক কর্মসংস্থান হবে। এখান থেকে শিখে তারা নিজেরাও আর্থিকভাবে ভালো স্বাবলম্বী হবে। আমি চাই, আমাদের এ কাপ্তাই হ্রদকে ব্যবহার করে স্থানীয় বেকার যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে আমার মতো উদ্যোক্তা হয়ে উঠুক।
বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এখানে দুই ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়। প্রথমত, বাঁশ, ড্রাম, খাঁচা, রশি জালসহ এককালীন বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া মৌসুম হিসেবে পোনা ছাড়া থেকে উৎপাদন পর্যন্ত আরেকটি বিনিয়োগ করতে হবে। আমি প্রথম ধাপে ৩২টি খাঁচায় ৫৩ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়েছি। পোনা ছাড়া থেকে খাদ্য সরবরাহসহ প্রতিটি মৌসুমে আমার ৭ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। তবে বাজারে মাছের ন্যায্য মূল্য পেলে আমি এ মাছ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো বিক্রয় করতে পারব। সে হিসাবে আমার প্রতিটি মৌসুমে ৬-৭ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রাঙ্গামাটিতে পোনা উৎপাদনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় জেলার বাইরে থেকে আমাদের মাছের পোনা সংগ্রহ করতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে এখানে যদি স্থানীয়ভাবে পোনা উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে আর্থিকভাবে খরচের পরিধি কিছুটা কমে আসত।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ ছাড়াও নানা উপজেলায় ছোট ছোট পুকুর রয়েছে। আমরা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের মাছের খাদ্য বিতরণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করে থাকি। খাঁচায় মাছচাষীদের আমরা একইভাবে সহায়তার চেষ্টা করব।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









