বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে আছে ঠিকাদারের লোকজন। মজুদ করে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এতে করে এক কক্ষে শিশু ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। এরমধ্যে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে আর প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে বেঞ্চে বসে। এতে পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে নেত্রকোণার সদর উপজেলায় মেদনী ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এদিকে দুই নারী শিক্ষক যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসলেও প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষক উপস্থিত হন সকাল ১০টার পরে।
প্রাথমিক স্কুল সকাল ৯টা থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিধান থাকলেও কিন্তু রমজান মাসের জন্য তা সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত করা হয়েছে। এ তথ্য জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন অরবিন্দু সরকার। এছাড়া আরও চারজন সহকারি শিক্ষক রয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ দখল করে থাকছেন ঠিকাদারের লোকজন ও সেখানে সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় দোলোয়ারা নামে নারী শিক্ষক এসেই অফিস কক্ষের তালা খুলে পাতাকা উত্তোলন করেন। এরপরেই আসেন আরেক নারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার। এক কক্ষের মেঝেতে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বসছে। একই কক্ষের বেঞ্চে বসছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এভাবে এককক্ষে চলছে একসাথে দুই শ্রেণির পাঠদান। সকাল ১০টার কিছু সময় পরে আসেন প্রধান শিক্ষকসহ আরেক পুরুষ শিক্ষক।
স্কুলের সাবেক ছাত্র অ্যাডভোকেট সোয়েবসহ স্থানীয়রা জানায়, শ্রেণিকক্ষ খোলা ও বন্ধ করা থেকে শুরু করে পতাকা উত্তোলন, চেয়ার-টেবিল পরিস্কার ও বিদ্যালয়ে মেহমান (ভিজিটর) আসলে চা বানানো, ক্লাসে পাঠদানসহ সিংহভাগ কাজই দুই নারী শিক্ষকই করে থাকেন। পুরুষ শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের পরে এসেও অফিসে বসে কাজ করেন এবং নারী শিক্ষকদের ফরায়েশ জারি করেন। এমন এক প্রকার লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার দুই নারী শিক্ষক।
নারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার জানান, জায়গার সমস্যা তাই এক কক্ষে দুই শ্রেণি ক্লাস নিতে হয়।
ঠিকাদারের নিযুক্ত ফোরম্যান (হেড রাজমিস্ত্রী) আ. হেলিম জানান, এ কাজে কত টাকা বরাদ্দ সঠিক তথ্য জানা নাই। তবে প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকার মতো হবে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আগেও আমরা যেসব স্কুলের কাজ করেছি সেখানেও এভাবে শ্রেণিকক্ষে থেকে কাজ করেছি। এখানেও সেভাবেই কক্ষে থাকছি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু সরকার বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা তাদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে কক্ষে থাকতে দিয়েছি। রমজান মাস শেষে তারা কক্ষ ছেড়ে দিবেন। যথাসময়ে স্কুলে না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, আজই আসতে দেরি হয়ে গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ জানান, ঠিকাদারের লোকজন স্কুলের মাঠে নিজেরা চালা ঘর তৈরি করে থাকার বিষয়ে প্রতিটি স্কুলে চিঠি ইস্যু করা আছে। কোন অবস্থাতে শ্রেণি কক্ষ দখল করে বাসস্থান ও মালামাল রেখে পাঠদান ব্যাহত করার নিয়ম নাই। বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু সকাল ৯টায়, রমজানে তা সাড়ে ৯টায়। এধরনের অভিযোগ শুনে আমি পূর্বধলায় উপজেলায় এক স্কুলে সকাল পৌনে ১০টায় হাজির হয়ে চারজন শিক্ষককে হাতেনাতে ধরেছি। বিলম্বে আসায় তাদেরকে কারণ দর্শানো হবে। নিশ্চিন্তপুর বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। সব বিষয়েই খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য দৌলত মিয়া বলেন, করোনার সময় স্কুলের নতুন বিল্ডিং নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বার্থে ও সামাজিকতায় ঠিকাদারের লোকদের শ্রেণি কক্ষে থাকতে দেয়া হয়েছে। এটা অনিয়ম ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।









