ভয়ে স্কুল-মাদ্রাসা ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা, কাটছে নির্ঘুম রাত
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালীতে একটি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের প্রায় ৬ হাজার লোক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের জিম্মি হয়ে পড়েছে। চরম নিরাপত্তাহীতায় শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে না স্কুল-মাদ্রাসায়। রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য এই এলাকার লোক নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠায় নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও পাশ্ববর্তী লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। মাদক, সন্ত্রাস,খুন ও অপহরণ এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্কুল, মাদ্রাসায় যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে রয়েছেন চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। এমনিতে রোহিঙ্গাদের কারণে নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। তার ওপর ভয় ও আতঙ্কে তারা এখন দিশেহারা।
মাদকের কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় ঘটছে গোলাগুলি ও খুনাখুনির ঘটনা। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে ১৮ মাঝিসহ খুনের সংখ্যা ১২৩। উখিয়ার থাইনখালীর ঘোনার পাড়া ক্যাম্পের পাশেই স্থানীয়দের সহস্রাধিক বসতি।
ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের সাথে মিলে মিশে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। অপরাধ করলে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু
মামলা হলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় সাক্ষীদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। ভুক্তভোগীরা বলছেন জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো ফল পাওয়া যায় না। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বন্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবু ও কোন সুরাহা মিলছে না।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ানের অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি সৈয়দ হারুনর রশীদ জানান, রোহিঙ্গাদের চলাচল আরও নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অপরাধ দমনে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। খুনোখুনো সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন অব্যাহত থাকবে।
এ দিকে এলাকায় স্বস্তি ফেরাতে চিহ্নিত স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।









