- লক্ষ্যমাত্রা-গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা
- রপ্তানি বাজারে প্রভাব
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৫ থেকে ৭০ হাজার কেজি চা পাতা প্রক্রিয়াজাতের জন্য হবিগঞ্জের ৪টি উপজেলায় ২৪ টি চা বাগানের ফ্যাক্টরিতে আসে। তাই এ মাসগুলোকে চা উৎপাদনের মৌসুম বলা হয়। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে এই কাঁচাপাতা প্রক্রিয়াজাত করতে সমস্যায় পড়ছেন বাগান মালিকরা। যে কারনে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও গুণগত মান নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। চায়ের উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চা বাগানের কারখানাগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা যাচ্ছে না।
এতে করে এর প্রভাব পড়বে আগামী রফতানি বাজারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দিনে কয়েক ঘন্টা লোডশেডিং থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম অর্থকরী ও রফতানিযোগ্য ফসল চা।
সারা জেলায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হচ্ছে লোডশেডিং। কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরো বেশি। যার ফলে চলতি বছরে প্রায় থেকে ৫ হাজার কোটি কেজি চায়ের যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
জেলার ৪টি উপজেলা মধ্যে মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জে রয়েছে ২৪ টি চা বাগান। এই বাগানগুলো থেকেই দেশের সিংহভাগ চা উৎপাদন হয়। চায়ের গুণগত মান অন্য এলাকার চা থেকে ভালো থাকায় হবিগঞ্জেকে বলা হয় চায়ের রাজধানী।
দেশের অভ্যন্তরীণ চায়ের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এ অঞ্চলের চা রফতানি করা হয়। তবে হঠাৎ করে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ায় চা শিল্প এখন নানামুখী সঙ্কটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চা শিল্পের সাথে জড়িতরা বলছেন, ‘হঠাৎ করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া। এতে করে নষ্ট হচ্ছে চায়ের গুণগত মান। যার প্রভাব পড়বে রফতানি বাজারেও’।
অন্যদিকে জেনারেটর চালিয়ে চায়ের কারখানাগুলোকে সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে অনেক। আবার চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ার কথাও বলছেন তারা। এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে সহসা উত্তরণের কোনো আশাও দেখাতে পারছে না হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সব মিলিয়ে একধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে চা বাগানগুলোর মালিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে।
দেউন্দি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে হঠাৎ করে লোডশেডিং তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া। প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চা উৎপাদনের মৌসুম। এ মৌসুমে প্রতিটি চা বাগানের কারখানাতে ক্ষেত্র ভেদে ৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার কেজি চাপাতা আসে প্রক্রিয়া জাতকরণ। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে এই কাঁচা চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে দেখা দিয়েছে সমস্যা।
মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানের মহা ব্যবস্থাপক মোঃ আবুল হোসেন জানান, ১ ঘন্টা লোডশেডিং হলে দুই ঘন্টা ক্ষতি হয়। শুধু উৎপাদন ক্ষতি নয় চায়ের কোয়ালিটিও খারাপ হয়, এভাবে চলতে থাকলে চায়ের কোয়ালিটি চা ধরে রাখা খুবই কঠিন হবে।
লাল চান্দ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের লাইন চা বাগানে ব্যবহার করি, কিন্তু প্রতিদিন লোডশেডিং কারণে আমাদের চা বাগানসহ সকল চা বাগানে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে’। লোডশেডিং কারণে খরচও বেড়ে গেছে’। বিদ্যুৎ চলে গেলে বাগানের জেনারেটর চালানো হয়। জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিজেল। প্রতি লিটার ডিজেল আমাদের ৮৫ থেকে ১শ টাকা করে ক্রয় করতে হচ্ছে। আবারও ডিজেলও চাহিদা মত পাওয়া যাচ্ছে না’।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক মাসুম মোল্লা বলেন, ‘চা-বাগানগুলো বিদ্যুতের একই পিডারে থাকায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। তাদের উপজেলা ভিত্তিক ব্যবস্থা করে দিতে কাজ চলছে । আশা করা যায় সেপারেট করে দিলে তারা অনেক উপকৃত হবেন।









