- সোয়া দুই কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা
শুরুর আগেই গাইবান্ধায় বন্ধ হয়েছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সোয়া ২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ১৪টি গভীর নলকূপ পানির ট্যাংকিসহ পাইপ বসানো হয়। খরচ হয় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে ৩টি বাদে বাকি ১২টিতে সুপেয় পানি সরবাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে গ্রামবাসী। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। ১৮ বছর ধরে ট্যাংকি ও গভীর নলকূপগুলো অযত্ন আর অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
এবিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০০৮ সালের শেষ দিকে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কোনো বিশেষজ্ঞ দিয়ে জরিপ না করেই গ্রামবাসীদের মধ্যে খাবার পানি সরবরাহের জন্য গোবিন্দগঞ্জে ৩টি পানির ট্যাংকি স্থাপন করে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেগুলো।
আয়ের চেয়ে ব্যয় ও লুটপাটের পরিমাণ বেশি বলে মনে হয়। প্রকল্পগুলো ৩টি জোনে ভাগ করা হয়। জোন ৩টি হলো- গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর। তবে এসব এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ।
এ প্রকল্পের আওতায় তড়িঘড়ি করে গাইবান্ধা সদর জোনের আনালেরতাড়ি, দাড়িয়াপুর, বোয়ালী, গিদারী ও মালিপাড়া। সাদুল্লাপুর জোনের ইসুবপুর ও গয়েশপুর। সুন্দরগঞ্জের চণ্ডিপুর ও ছাপরহাটি। গোবিন্দগঞ্জের পূর্ব দুবলাগাড়ী, খুরশাইল, ছোট সাতাইল বাতাইল ও কাঁঠালবাড়িতে গভীর নলকূপসহ ১৪টি পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়। প্রত্যেকটি ট্যাংকি ও নলকূপ বসানো বাবদ ব্যয় করা হয় ১৫ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। নলকূপ স্থাপন, ট্যাংকি নির্মাণ করা হয় স্থানীয় মানুষের খাবার পানির চাহিদা মেটানোর জন্য। তবে যে আশায় এতটাকা খরচ করা হয় সেটি আর হয়নি।
গাইবান্ধার ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুজ্জামান রিংকু বলেন, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে লাল হলুদ রঙ করে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘাগোয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০টি উঁচু পানির ট্যাংকি ও পাশেই গভীর নলকূপ স্থাপন করে। বলা হয় এ পানির ট্যাংকি থেকে ৩টি জোনের ৫ হাজার ২৭২টি পরিবারে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। তবে নলকূপ থেকে পানি সরবরাহের আগেই প্রকল্পের ১১টি ট্যাংকিতে পানি উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের মধ্যে খাবার পানি সরবরাহ হবে। সে জন্য বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি সংযোগ লাইনও স্থাপন করে। তার আগে দেখা যায় গভীর নলকূপ থেকে যে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে সে পানি ব্যবহার যোগ্য নয়। ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে খাবার পানির সংযোগ দেয়ার কথা থাকলেও দিতে পারেনি। ৩টি ট্যাংকির পানি কিছু জায়গায় সংযোগ দেয়া হয়। বাকি ১২টিতে সংযোগ দিতে পারলেও সে পানি ব্যবহার যোগ্য নয় বলে মুখ ফিরিয়ে নেয় গ্রামবাসী। ফলে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পুরো টাকাই গচ্ছা যায় প্রকল্প চালুর আগেই। অভিযোগ রয়েছে, ররেন্দ্র কর্তৃপক্ষের এ ট্যাংকিগুলো দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলেও এর পেছনে মেরামত ও নানান খরচ বাবদ ব্যয় দেখানো হয় ৫ লাখ ৪১ হাজার ১২০ টাকা। পানি বিক্রি থেকে ১৮ বছরে খাতায় জমা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৮০ টাকা।
বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০০৮ সাল থেকে সোয়া দুই কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে গত ১৮ বছরে এ প্রকল্পের ৩টি ট্যাংকি থেকে পানি বিক্রি করে আয় করেছে ৫৩ হাজার ২৮০ টাকা। তাতেই বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট। ঘাগোয়া ইউনিয়নের এক সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিযোগ করে বলেন, পানির ট্যাংকিগুলো দাঁড় করিয়ে রেখে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অর্থ লুটপাটের একটা রাস্তা তৈরি করে রেখেছেন। ট্যাংকিগুলো থেকে আবারো সুপেয় পানি সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়নে আধুনিক ব্যবস্থা নিলে গ্রামবাসী পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে এবং তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে। এ ব্যপারে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি আসার আগেই ট্যাংকিগুলো নির্মাণ করা হয় এবং তখন থেকেই বন্ধ রয়েছে। এগুলো আর মেরামত বা চালু করা হয়নি। সরকারি যন্ত্রাংশ মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।
রংপুর বিভাগীয় প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান খান জানান, দু-একটি স্থানে এই প্রকল্প বন্ধ হয়েছে। বাকিগুলো চলছে। তাছাড়া উপকারভোগীরা চাইলেই সংযোগ লাগিয়ে দেয়া হবে।









