নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ১০ টাকা মূল্যের সরকারী রাজস্ব টিকিট (রেভিন্যু স্ট্যাম্প) দ্বিগুণ মূল্যে ২০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। ৫ জুলাই রবিবার সকালে করোনা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত প্রণোদনাপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা অর্থ সহায়তার চেক নিতে আসলে এ ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী বাবুল হোসেন রেজিস্ট্রারেে স্বাক্ষর নেয়ার সময় দ্বিগুণ মূল্য হাতিয়ে নেয়।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত করোনাকালীন পরিস্থিতির কারনে সংকটাপন্ন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রনোদনা পাচ্ছেন। এর আলোকে সৈয়দপুর উপজেলার ২৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৪৩১ জনকে ৫ জুলাই প্রণোদনার চেক প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
কিন্তু অর্থ সহায়তার এ চেক নিতে এসে হয়রানীর শিকার হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। রেজিস্ট্রার সম্পন্ন করতে ১০ টাকার রাজস্ব টিকিট দিয়ে স্বাক্ষর করতে গেলে দাবী করা হয় ২০ টাকা। যারা নিজেরা রাজস্ব টিকিট কিনে এনেছেন তারা পার পেলেও অন্যদের গুনতে হয়েছে দ্বিগুন মূল্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী হয়েও যিনি কম্পিউটার অপারেটর তথা রেজিস্ট্রারের কাজ করেছেন সেই বাবুল হোসেন কে অতিরিক্ত দাম কেন নেয়া হচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলেন টিকিট আনার জন্য যাতায়াত খরচ বাবদ এটা দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে মাত্র ৩০ গজ দূরেই উপজেলা সাবরেজিস্টার অফিস। তারপরও এ অজুহাতে দ্বিগুণ মূল্য আদায় করা হলো প্রকাশ্যেই। আমরা নন-এমপিও শিক্ষকরা যেন তাদের কাছে জিম্মি। তাদের কাছে আমাদের অনেক কাজ থাকে তাই অন্যায় জেনেও প্রতিবাদ না করে দ্বিগুণ মূল্য দিয়েই রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করেছি। আমার মত প্রায় সবাই তাই করেছে বাধ্য হয়ে। বিশেষ করে মহিলা শিক্ষকরা।
আরও কয়েকজন শিক্ষক একইভাবে অভিযোগ করে বলেন, এভাবে যদি প্রকাশ্যে শিক্ষা অফিসের মত জায়গায় অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। তাহলে এর চেয়ে বড় অপরাধও হয়তো এখানে গোপনে হয়। আমরা সচরাচর এখানে আসিনা তাই বিষয়টা ভালোভাবে জানিনা। তবে স্কুল প্রধানদের কাছে অনেক গল্পই শুনি। আজ তার সামান্য নমুনা দেখলাম মনে হয়।
অন্য এক শিক্ষক বলেন সামান্য ১০ টাকা বেশি নিয়েছে তাতে কি এমন হয়েছে। এখানে এর চেয়েও বেশি অনিয়ম দূর্নীতি হয়। সেগুলো দেখেন, তাহলে আমাদের তথা জাতির উপকার হবে।
এ ব্যাপারে নৈশ্য প্রহরী বাবুল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা সঠিক নয়। টিকিট প্রত্যেকেরই নিজ নিজ দায়িত্বে আনার কথা। যারা এনেছে তারা তাদের টিকিট দিয়েই স্বাক্ষর করেছে। যারা আনেনি তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এতে তারা অনেকে খুশি হয়ে ১০/৫ টাকা বেশি দিয়েছে। এটাতো আর বাধ্য করে টাকা হাতিয়ে নেয়া নয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেহেনা ইয়াসমিন মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত নই। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, প্রণোদনাপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্ধেকও যদি দ্বিগুণ মূল্যে টিকিট নিয়ে থাকে তহলেও ২ হাজার টাকার বানিজ্য করেছে ওই নৈশ প্রহরী।
আনন্দবাজার/এফআইবি








