তাঁতশিল্পীদের সুবিধা দিতে 'ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট স্থাপন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সেখানে তাঁতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সাথে পরিবর্তিত বাজারে ভোক্তার চাহিদার সাথে মিল রেখে নতুন নতুন ডিজাইন উদ্বোধন এবং দক্ষ ডিজাইনার ও মানবসম্পদ তৈরিতে হবে এই ইনস্টিটিউটটি।
জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডকে। তবে এতে ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাবতে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শাহ আলম জানান, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের বস্ত্র ও পাট খাতের গৌরবময় ইতিহাস ও সোনালী ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরা। উৎপাদিত জামদানি পণ্যের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা। তাঁতশিল্পীদের জন্য বয়নপূর্ব ও বয়নোত্তর নানা ধরনের সেবা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের ঐতিহ্য এ জামদানি শিল্পের উন্নয়ন বৃদ্ধি করতে রূপগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী গ্রামে জামদানি পল্লী প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় সরকার। জামদানি শিল্প এবং তাঁতীদের রক্ষা করাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জামদানি তাঁতীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা বিসিকের কাছ থেকে প্লট ছাড়া এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। বিসিক কর্তৃপক্ষ নানা প্রকল্প ও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা জামদানি পল্লী নিয়ে চিন্তা করার সময় পান না। পানির লাইন, গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সকল সমস্যার সমাধান তাঁতীদেরকেই করতে হয়।
তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, তাঁতীদের বাড়িঘর এবং তাঁত শেড অস্বাস্থ্যকর, আশপাশে পরিবেশ ব্যাপক নোঙরা। বেশিরভাগ তাঁতীর বাড়িতে সেলস সেন্টার ও মানসম্মত ওয়াশরুম নেই। এমনকি বসার ভালো কোন ব্যবস্থাও নেই। ফলে জামদানি পল্লী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই অর্জন হয়নি। জামদানি শিল্প হারাতে বসেছে তার গৌরবময় অতীত-ঐতিহ্য। এজন্যই নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









