মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলাকে শীতল পাটির জন্য বিখ্যাত বলা হয়। শুধু তাই নয় দেশের সবচেয়ে বেশি শীতল পাটি তৈরি হয় এখানে। মূলত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ‘মুর্তা’ থেকে তৈরি হয় শীতল পাটি। তবে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বহি:বিশ্বে শীতল পাটি রফতানি কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এখন এ পাটি তৈরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন কারুশিল্পীরা। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার পাশাপাশি মুর্তা-বেত কমে যাওয়ায় বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।
রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিল বাড়ি গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ দীগেন্দ্র দাশ। তিনি বলেন, পাটিশিল্পে তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। দাদা রামচরণ দাশ ও বাবা দীনেশ কুমার দাশ এ পেশায় ছিলেন। তাদের দেখে এ পেশায় জড়ান তিনি। তবে তার এলাকায় পাটি তৈরি করা শ্রীকান্ত দাশ, রমা কান্ত দাশ, নিরদ দাশ, সুধির দাশ, অগদুর দাশ, পুরঞ্জয় দাশ, রঞ্জয় দাশ, রাইমন দাশ, অষ্টিনি দাশ বর্তমানে তাদের কেউই বেঁচে নেই।
তার ভাই সত্যরঞ্জন দাশ কৃষি কাজের পাশাপাশি পাটি তৈরি করেন। গত সেপ্টেম্বরে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে ১০ দিনের একটি প্রশিক্ষণেও অংশ নেন সত্যরঞ্জন। তিনি জানান, একটি পাটি তৈরি করতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। নকশা ছাড়া একটি পাটির চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে অর্ডার দিয়ে মসজিদ, মন্দির, মিনার কিংবা ব্যক্তির নাম দিয়ে তৈরি করলে দাম পড়ে ২৫ হাজার টাকা।
একই ইউনিয়নের তুলাপুর গ্রামের গীতেশ চন্দ্র দাশ জানান, ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান। এ সময় জাপান ও চীনে যান গীতেশ। তিনি জানান, বিভিন্ন রঙের নামের পাটির মধ্যে রয়েছে সাদা পাটি, গুছি রঙ্গা পাটি, আসমান তারা, চৌদ্দ ফুল, কমল গুশ পাটিসহ হরেক রকম পাটি। এছাড়াও এখন মুর্তার বেত দিয়ে তৈরি করছেন কলমধানি, ভ্যানিটিব্যাগ, কোর্ট ফাইল, মানিব্যাগ, ওয়ালম্যাট ও জায়নামাজ। গীতেশ চন্দ্র দাশ আরও জানান ,সরকার থেকে কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি। শুধু ইউনেস্কোর সম্মেলনে যেতে খরচ দিয়েছিল। আর বিভিন্ন সময় কারুশিল্পের মেলা হলে বলা হয়। এছাড়া আর কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ধুলিজুড়া ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের যুগিকোনায় ছাড়াও জেলার বড়লেখা দাসেরবাজার ও তালিমপুর ইউনিয়নে শীতল পাটি তৈরি হয় বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ (আইসিএইচ) ইউনেস্কোর ১২তম অধিবেশনে বিশ্বের নির্বস্ক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (দি ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি) হিসেবে রাজনগরের শীতল পাটিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আল আহসান জানান, জায়গাগুলো পরিদর্শন করেছি। শীতল পাটির বিকাশে ঋণের জন্য ব্যাংকগুলো থেকে যাতে কারুশিল্পীরা ঋণ পান সে জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা আছে। এছাড়াও শিল্পমন্ত্রণালয়ও এটি নিয়ে কাজ করছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









