বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শেষ হল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ‘হিংসা বিদ্বেষ দুরে থাক শান্ত সবুজ ছায়ায়, সকল কালিমা মুছে যাক মৈত্রীময় জলধারায়’ এ প্রতিপাদ্যে পালিত হয় এবারের সাংগ্রাই উৎসব। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তঞ্চঙ্গ্যারা বৈসু, চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা চাংক্রান এবং মারমা সম্প্রদায় পালন করে থাকে এ সাংগ্রাই উৎসব।
বর্ষবরণকে ঘিরে তিন দিনব্যাপি নানা আয়োজনে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই বা জলকেলি। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের মাধ্যমে মারমারা পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। সাংগ্রাই উপলক্ষে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে তিন দিনব্যাপি আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান মালার। এরমধ্যে বৌদ্ধ মূর্তি স্নান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, বিহারে বিহারে ছোয়াইং দান, বয়স্ক পূজা পিঠা তৈরী নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব। মারমা যুবক যুবতি তরুণ তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উদযাপন করে। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে পাহাড়ি বাঙালি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও এ উৎসবে অংশ নেয়। করোনার কারণে গেল দুবছর ধরে এ উৎসব পালন করতে পারেনি পাহাড়ের বাসিন্দারা। তাই এবছর সাংগ্রাই উৎসব পালন করতে পেরে খুশি মারমা তরুণ তরুণীরা।
ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ এ উৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন্ন করতে জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল বলে জানান বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার জেরিন আখতার।









