বরিশালের একটি সরকারি দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামার থেকে গোপনে গরু বিক্রির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে টাগের্ট করে সুকৌশলেই এ কাজটি সম্পন্ন করেছে খামারের দায়িত্বরতরা। আর এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বরিশালের গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে। তড়িঘড়ি করে খামারটির ২০টি গরুকে প্রজনন অক্ষম ও রোগা দেখিয়ে ঢাকায় পাঠানোর ব্যাপারে কোন সদোত্তর নেই এ অঞ্চলের একমাত্র সরকারি এ খামারটির কর্তা ব্যক্তিদের কাছে।
জানা যায়, বরিশাল নগরীর উপকন্ঠ কাশিপুরে অবস্থিত সরকারি দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়ম যেন লেগেই আছে। এরই মধ্যে খামারটিতে ৪৫টি বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির দুগ্ধ গাভী প্রেরণ করা হয়। যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো গাভী যদি প্রজনন অক্ষম বা অধিক রোগাক্রান্ত হয় তখন বিষয়টি উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তা স্থানীয় ভাবে নিলামে বিক্রির নিয়ম রয়েছে। আর এ নিলাম প্রক্রিয়াও গত ২ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এভাবে অনুষ্ঠিত নিলামে বিক্রিতে সরাসরি অংশ নেয় বরিশাল অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় আকস্মিক খামারের ২০টি উন্নত প্রজাতির দুগ্ধ গাভী কৌশলে ট্রাকযোগে ঢাকায় কেন্দ্রীয় গো প্রজনন খামারে পাঠানো হয়। এর কারন হিসেবে গাভী গুলোকে প্রজনন অক্ষম বলে প্রচারনা চালায় খামারটির দায়িত্বরতরা। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে। তাদের অভিযোগ আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকায় নেয়ার কথা বলে কথিত নিলামের নামে এসব গাভীগুলো ভাগভাটোয়ারা করা হবে। আর এতে একদিকে সরকার হারাবে তার বিপুল রাজস্ব ও বরিশালের গরু ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে।
খামারের ২০টি গাভী রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি ঢাকায় কেন্দ্রীয় গো প্রজনন খামারে পাঠানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল সরকারী দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামারের উপ-পরিচালক আনিসুজ্জামান দৈনিক আনন্দ বাজারকে জানান, এগুলো মন্ত্রনালয় থেকে লিখিত চিঠির মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়ায় তা ঢাকায় পাঠানো হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবছর নিলাম না হওয়ার কোনো কারন চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। বরিশাল দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, গাভীগুলোর নিলাম কেন হয়নি তা ঢাকা অফিস বলতে পারবে।









