গেল কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে অসহায় হয়ে পড়েছিল লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষ। তবে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়ে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি। ফলে দেখা দিচ্ছে নদীভাঙন।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ব্যারেজটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গতকাল রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। যা বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
এদিকে, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিঙ্গীমারী, সিন্দুর্না,পাটিকাপাড়া ও ফকিরপাড়া ইউনিয়নের তিস্তা ও সানিয়াজানে নদীভাঙনে প্রায় দুইশ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে স্থানীয় বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে সৃষ্ট বন্যায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে করে লোকজন নিরাপদ পানি এবং খাদ্য সংকটে আছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, আমন বীজতলা ৬৭ হেক্টর, ভুট্টা ১০ হেক্টর, বাদাম ১ হেক্টর ও রোপা আউস বীজতলার ৫ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। এ সব জমি দীর্ঘসময় জলমগ্ন থাকলে আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে।
আনন্দবাজার/এম.কে









