দেশের ৫৭টি জেলায় একযোগে জেলা পরিষদ নির্বাচন আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। সব প্রস্তুতি শেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেবল সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। নির্দলীয় এ নির্বাচনে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। জেলা পরিষদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চেয়ারম্যান পদে ৯০ এবং সাধারণ সদস্য পদে এক হাজার ৫০৫ ও সংরক্ষিত পদে ৬২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোলা এবং ফেনীতে সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ায় আর ভোট হচ্ছে না। বাকি দুই জেলা নোয়াখালী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। সে কারণে ৫৭ জেলা পরিষদে ভোট হবে আজ। এ উপলক্ষে ৫৭টি জেলা পরিষদের ৪৬৫টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করা আছে।
জেলা পরিষদ ভোট ইসি কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন এ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান। তিনি বলেন, আমরা সবগুলো কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ভোট মনিটরিং করব। এটা ইসির সিদ্ধান্ত। আহসান হাবিব খান বলেন, সিসি ক্যামেরা বসানো শুধু দেখানোর জন্য নয়, প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। সে কারণে আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচন ইসি থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছি।
অনেকে বলেছেন, এখান থেকে দেখে আমরা কেন গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করেছি। এটা ঠিক নয়, আমরা সবগুলো কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করব, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে ব্যবস্থা নেব। আমরা চাই, প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। ইসির কন্ট্রোল রুমে প্রতিটি কেন্দ্রের অর্থাৎ ৪৬৫টি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার জন্যই এ ব্যবস্থা।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে ইসি। বিশেষ করে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের নানা ঘটনার পর এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি। কোনো জেলায় যাতে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি ভূমিকা রাখতে না পারেন সেজন্য এর মধ্যেই তাদের সতর্ক করা হয়েছে, বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই ইসির লক্ষ্য।
আনন্দবাজার/শহক









