উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহৎপশুরহাট চাঁচকৈড়। নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা সব চেয়ে বড় হাট। সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এ হাট। শুধুমাত্র মঙ্গলবার হাটে গরু মহিষ ও ছাগল ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। ঈদুল আযহার গরু কেনাবেচার শেষ হাট আজ।
চাঁচকৈড় শাহ পাড়া মসজিদ থেকে শুরু হয়ে ব্রিজ দিয়ে পর্ব দিকে খলিফা পাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে ওই পশুর হাট। পশুর হাট জমজমাট হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না গরুর মালিক ও খামারিরা। পশুর খাবারের দাম শ্রমিকের মজুরি বৈরী আবহাওয়া, বন্যা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই কোরবানীর সংখ্যা কমেছে। তার ওপরে আবার কোরবানি দেওয়ার জন্য প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এ কারণে বাজার ভর্তি পশু থাকলেও ক্রেতার অভাবে দাম না পাওয়ায় গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে গরু-ছাগলের আমদানি বেশি থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় বেচা বিক্রী নেই বললেই চলে। এতে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানি পশু। দামের সুবিধা পাওয়ায় গরু কিনে ক্রেতারা খুশি হলেও সারাবছর পালন করে প্রত্যাশার মতো বিক্রয়মূল্য না পাওয়ায় মন খারাপ বিক্রেতাদের।
হাটে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্যবিধি বা সামজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। নেই করোনা প্রতিরোধে সুরক্ষা সামগ্রী। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
গরুখামারি মোলেব হোসেন জানান, তিনি ১০টি গরু নিয়ে এসছেন হাটে বিক্রি করতে। এর মধ্যে দুটি গরু বিক্রি করেছেন মাত্র। সেখানেও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর গরুর দাম গড়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কম। এতে ক্রেতাদের খুশি হতে দেখা গেলেও বিক্রেতারা খুশি হতে পারছেন না।
তাড়াশ উপজেলার কাটাবাড়ি গ্রামের কৃষক রাজু মন্ডল জানান, তিনি তার একটি ষাঁড় ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে তার আশা ছিল ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করার। তিনি আরও বলেন, কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে খামারিরা আছেন শঙ্কায় আর দুঃশ্চিন্তায়।
উপজেলার সাবগাড়ি গ্রামের গরু ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ৭ জন মিলে কোরবানি দিবো। টার্গেট ছিলো ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের মধ্যে গরু কিনবো। তবে মাত্র ৯৮ হাজার টাকায় একটা গরু কিনলাম। মুখে হাঁসি দিয়ে বলেন, ভালোই হয়েছে গরুটি। এবার তুলনামূলক গরুর দাম কম।
খামারি সালাম, নাজমুল, জালাল ও তানিম জানান, প্রতিবছর ঈদের ২০ থেকে ২৫ দিন আগে থেকেই ঢাকার ব্যবসায়ীরা খামার ও গরু মালিকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাম দর করে গরু কিনেন। এবছর সেই কেনা বেচা নাই।
গুরুদাসপুর হাট ইজারাদার আনিসুর রহমান মোল্লা জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার গরু এবং ১০ হাজারের মতো ছাগল হাটে আসলেও ২৫ থেকে ৩০ পাসেন্ট গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। বাকি সব ফেরৎ গেছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন বলেন, চলীত বছর পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসানোর জন্য ইজারাদারদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এছাড়া পশুর হাটকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।









