- তাপমাত্রা নামছেই, ঘরবন্দী মানুষ
ফের প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনজীবন। এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার শঙ্কাসহ এই অবস্থা কমপক্ষে আরো তিনদিন অব্যাহত থাকার কথাও বলেছেন তারা।
গতকাল শুক্রবার সকালে রংপুরে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কুড়িগ্রামে দেশের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’ রংপুর অঞ্চলের এই প্রবাদ যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শীতের এই দাপটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় দিনে-রাতে অনুভূত হচ্ছে ঠাণ্ডা। হিমেল হাওয়াসহ কনকনে শীতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমাহীন কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষকে। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীরের উঞ্চতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন দরিদ্র পরিবারের লোকজন। এমন আবহাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
শীতের তীব্রতাসহ শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে রংপুর নগরীতে মানুষের সমাগম কমে যায়। কমে গেছে যানবাহন চলাচল। হিমালয়ের বরফ গলা বাতাসে শীত যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে মানুষসহ পশুপাখিকে। কুয়াশাও পড়ছে বৃষ্টির মতো। বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে থাকায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে মারাত্মকভাবে। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও।
অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়লেও এ বছর শীত নেমেছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে। জানুয়ারিতে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে এখন তা অনেকটা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত দু’দিন ধওে ঘন কুয়াশাসহ হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষজন।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে রংপুরের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। বাতাসের আর্দ্রতা কাছাকাছি হওয়ায় বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত হতে না পারায় সূর্যের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিণতিতে আবারো শীত জেঁকে বসেছে। শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে।
আনন্দবাজার/শহক









