ভারী বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলসহ কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধান, ভুট্টা, পাট ও কাঁচা মরিচ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কার্যালয়।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন সহস্রাধিক বসতঘর, গাছপালা, কাঁচা রাস্তা, গবাদিপশু, পাকা স্থাপনা। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা বলে উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়। উপজেলা প্রশাসন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
গত রবিবার বিকেলে শুকনো মৌসুমে হঠাৎ এমন ঝড়ো বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে কৃষকদের কষ্টে লালিত ফসল। অসময়ে এমন দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে এখন হতাশার ছাপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ফসল রক্ষার জন্য দিনভর কাজ করছেন। কারও কষ্টের ফসলের হেলে পড়া দেখে মুখ ভার, কেউবা এখান থেকে বাকিটুকু পরিচর্যা করার প্রাণপণ চেষ্টা করছে।
জানা যায়, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও চরাঞ্চলে গম, ভুট্টা, ধান, পেঁয়াজ, মরিচ, বাদাম আবাদ করা হয়েছে। তবে হঠাৎ দমকা হাওয়া বৃষ্টির হানা, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কখনো মুষলধারে বৃষ্টিতে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে। কৃষকরা আর কয়েক দিন পর উৎপাদিত ভুট্টা কেটে ঘরে তুলে বিক্রির স্বপ্ন দেখছিলেন। ভেবেছিলেন ধারদেনা ও ঋণের বোঝা মিটিয়ে স্বস্তির হাসি হাসবেন, সেখানে মাথায় হাত পড়েছে তাদের। লাভ তো দূরের কথা, দরিদ্র কৃষকরা উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়ে এখন শঙ্কিত।
চর কিসামতের ভুট্রা চাষি খোকা মিয়া জানান, তিন একর জমিতে ভুট্টা ছিল। ভুট্টার সব গাছ বাতাসে হেলে পড়েছে। দানা পরিপক্ব হওয়ার আগেই গাছের গোড়া নড়ে যাওয়া ও শিকড় ছিড়ে যাওয়ায় আশানুরুপ দানা হবেনা ভুট্টায়। হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষতি হওয়া পাট ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত কৃষক ইউনুছ আলী।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান, ১ হাজার ৫০ হেক্টর ভুট্টা ও ২৮ হেক্টর জমির জমির মরিচ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কৃষকরা জানান, লাভের আশায় বিভিন্ন ফসল চাষ করা হলেও ফসল উত্তোলনের আগে অসময়ে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতেই অধিকাংশ ফসল পড়ে নষ্ট হচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়ে হতাশায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
এ বিষয়ে বালাপাড়া এলাকার কৃষক কামরুল জানান , ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমার ভ্ট্টুা ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার ৫ বিঘা ভুট্টা ক্ষেতে সব গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ফলন ভালোই হয়েছিল। তবে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির কারণে সব শেষ হয়ে গেল। লাভ তো দূরের কথা, আসল তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, শীলাবৃষ্টিতে বোরো ধানসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হতে হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতি নির্নয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করছি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন জানান, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমির উঠতি ফসল মাটিতে শুয়ে গেছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি তাঁরা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।









