মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা হাসপাতাল
মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতাল। যদিও দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালটির ডাক্তার সল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যার কারণে বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চরম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটিও বিকল। মেশিনটি গত আড়াই মাস যাবৎ অচল হয়ে পড়ে আছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নষ্ট হয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে আগত জেলার কয়েক হাজার রোগী স্বল্পমূল্যে জরুরি এক্স-রে করাতে না পেরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। অনেকেই আবার ধার কর্জ করে বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে গলাকাটা মুল্যে এক্স-রে করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯শ’ রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। আর ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩শ’ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।
গতকাল সকালে সরেজমিনে সদর হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকার শতশত রোগী এসেছেন চিকিৎসা নিতে। শিশু এবং বয়স্করা জ¦রসহ শ্বাসনালীর বিভিন্ন জটিল সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগীর বেশিরভাগেরই চিকিৎসা দিতে বুকের এক্স-রে প্রয়োজন হয়। তবে, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি অচল থাকায় ডাক্তাররা বাইরে থেকে এক্স-রে করে নিয়ে আসার জন্য লিখে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে সদর উপজেলার বাহার মিয়া (৫৫) বলেন, উনার জ¦র ও শ্বাসকষ্ট। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রক্তের সিবিসি ও বুকের এক্স-রে করে নিয়ে আসার জন্য লিখে দিয়েছেন। তিনি জানান, রক্তের পরীক্ষা হাসপাতালে হবে। আর এক্স-রে বাইরে থেকে করে আনতে হবে। এছাড়া শমসের নগরের আব্দুল কাইয়ুম (৪০) কমলগঞ্জের অনুকুল দাস (৪০) টেংরা বাজারের জহির মিয়া (৫০) পৌর-শহরের সাবিত্রী দেবী (৩৮) সহ চিকিৎসা নিতে আসা আরও ২০-৩০ জন রোগীকে বেশ আক্ষেপ করতে দেখা যায়। তারা জানান, সদর উপজেলায় ১৫০-২০০ টাকায় যে এক্স-রে করা যায়। তবে এর জন্য বাহিরে গুনতে হয় ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। অর্থাৎ খরচ দ্বিগুণ। তাই অনেক গরিব রোগী দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এসেও টাকার অভাবে লিখে দেওয়া এক্স-রে করতে না পেরে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে ফিরে যাচ্ছেন।
এ মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. এ কে এম হুমায়ুন কবির জানান, সারাদেশের সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের তুলনায় এটা একটু বেশী আধুনিক তাই এটার কাজ সব ইঞ্জিনিয়ার’রা করতে পারে না।
এ সময় এক্স-রে মেশিনের অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেনেন্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেইনিং সেন্টারে চিঠি দেওয়ার পরে তারা সরেজমিন এসে কাজ করছেন সুতরাং এটা অচিরেই সচল হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।









