বগুড়ার আদমদীঘির রেলস্টেশন-কদমার প্রধান সড়কে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পাকা সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থী, যানবাহন ও পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন, ট্রেন্ডারের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে সমস্যাটি নিরসন করা হবে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রামপুরা মোড়ে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপর পানি জমে রয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ দিন যাবৎ পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় সড়কের কার্পেটিং উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অল্পদিনেই সড়কটি নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সেখান থেকে মাত্র ৫০ মিটার পশ্চিমে রামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ওই মোড়ের ময়লা পানি অতিক্রম করে স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কদমা, করজবাড়ি, গণিপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের যানবাহন ও পথচারিদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ভুক্তভোগীরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চেয়ে জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রামপুরা গ্রামের অটোভ্যান চালক আনোয়ার হোসেন জানান, পাকা সড়কের ওপর এক হাটু পানি জমে থাকায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখানে এসে থেমে যাচ্ছে। তাদের কষ্ট দেখে আমরা ভ্যানে করে জায়গাটুকু পার করে দেই। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনিয় কাজ ছাড়া এ মোড়ে কেউ আসছেনা। যারা পায়ে হেঁটে এ মোড় অতিক্রম করতেন তারা পানিবাহিত রোগের ভয়ে আর চলাচল করছেন না।
কদমা গ্রামের আব্দুল মোমিন মুন্না নামের এক শিক্ষার্থী জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কলেজে যেতাম। পানি জমে থাকা স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন সান্তাহার হয়ে ১০ কিলোমিটার ঘুরে কলেজ যেতে হচ্ছে। ফলে এক দিকে অধিকভাড়া গুণতে হচ্ছে অন্যদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে।
রামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি লোকনাথ চন্দ্র পাল জানান, সড়কের অন্যান্য স্থানের চেয়ে রামপুরা মোড় অধিক নিচু। আগে মোড়ের পানি দু’পাশের পুকুরে নেমে যেতো। সম্প্রতি পুকুর মালিকরা পানি নিষ্কাশন করতে না দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্কুলের দিকে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেদিক দিয়ে আর পানি নামছে না। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া আসার সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর পানি নিষ্কাশন করার জন্য দুই পুকুর মালিককে জনস্বার্থে নোটিশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের একটি ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।









