ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপি করায় মালামাল লুটপাট করে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা ইউসুফ মুন্সীর বিরুদ্ধে। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন ১নম্বর ওয়ার্ড কলমি ব্রিজ ঘাট এলাকায় এঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইউসুফ মুন্সী রসুলপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও একই ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রব মুন্সির ছেলে।এবং অভিযোগকারি মো. আক্তার ফরাজি শশীভূষণ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি। এবং একই ওয়ার্ডের মৃত নুরুজ্জামান ফরাজির ছেলে।
অভিযোগে দোকান মালিক মো.আক্তার ফরাজি জানান, শশীভূষণ থানাধীন চর কলমী ব্রীজঘাট সংলগ্ন 'মেসার্স ফরাজি টেড্রাস, নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০বছর যাবত চালিয়ে আসছি। এরই মধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর হটাৎ অসুস্থ হয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে গত রোববার ১৭ ডিসেম্বর বাড়িতে এসে কলমী ব্রীজ সংলগ্ন আমার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিকালে দোকান করে রাত ১০টার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসি। তিনি আরও বলেন, দোকান বন্ধ করে বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পর স্থানীরা মুঠোফোনে আমাকে জানায় আমার "মেসার্স ফরাজি টেড্রাস, দোকান যুবলীগ সভাপতি মো.ইউসুফ মুন্সির নেতৃত্বে ১০-১২জনের সঙ্ঘবদ্ধ চক্র দোকানের মালামাল বের করে আমার দোকানে তালা মেরে দেন। খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গেলে ইউসুফ গংরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার দিকে তেরে আসলে তাদের মারধরের ভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। বর্তমানে আমি যুবলীগ নেতার ভয়ে নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছি। আমার দোকানটি ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
অভিযুক্ত যুবলীগ সভাপতি ইউসুফ মুন্সি বলেন, আমি সাড়ে ৩ শতাংশ জমির ক্রয় সুত্রে মালিক, আমার ক্রয়কৃত জমিতে বিএনপি নেতা আক্তার ফরাজি জোরপুর্বক দোকান উত্তোলন করে ব্যবসা করে আসছে, আমি তাকে দোকান সরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বলার পরও তিনি দোকান ছাড়েনি। পরে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে তার দোকানের মালামাল সরিয়ে নিলে আমি দোকানে তালা মেরে দেই।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সরজমিন গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়িরা বলেন, আক্তার ফরাজি বিএনপি করায় তার দোকানটি জোরপূর্বক যুবলীগ নেতা দখলে নিয়েছেন।
রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম পন্ডিত, দোকানে তালা দেওয়ার বিষয়ে শুনে নাই বলে ফোন কেটে দেন।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক জানান,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









