শীতে দুর্ভোগে শ্রমজীবীরা
‘কাম (কাজ) না করলেতো প্যাটোত (পেটে) ভাত যায় না। কঠিন ঠান্ডায় সারাদিন থরথর করি গাও কাঁপে। ইয়াতে কতক্ষণ কাম করা যায়!’ ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কাঁদাপানিতে বোরো ধানের চারা রোপনকালে এমন কথা বলেন, রংপুর নগরীর চব্বিশ হাজারী এলাকার পঞ্চাষোর্ধ আব্দুস সোবহান। শুধু তিনিই নন, ঘন কুয়াশাসহ তীব্র শীত জেঁকে বসায় রংপুরের সর্বত্র শ্রমজীবি মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন বেকায়দায়।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বৈরি আবহাওয়ায় ঘর থেকে যেখানে বের হওয়া দুস্কর, তার মধ্যেই পেটের তাগিদে কৃষিশ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঠে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ঠান্ডাপানিতে বোরো ধানের চারা রোপন শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
রংপুর নগরীর উত্তম এলাকায় পুরোনো পানিতে আগাম বোরো ধানের চারা রোপন করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় গিলাবাড়ি এলাকার জাফর আলী বলেন, ‘প্যাটে খাইলে কামতো করায় নাগবে। ঠান্ডাকে ভয় করলেতো হামরা বাইচপার নই।’
কৃষিশ্রমিক শওকত আলী বলেন, ‘কাজ শেষে মনে হয় হাত-পায়ে কোন বল (বোধশক্তি) থাকেনা।’ তাঁরা জানান, এলাকায় ব্যাপকহারে ধানের চারা রোপন শুরু না হওয়ায় কাজও তেমন একটা পাওয়া যায়না। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০০ টাকা হাজিরায় কাজ করছেন তাঁরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনও পুরোপুরি চারা রোপন শুরু না হলেও নিচু এলাকায় স্থানীয় জাতের বোরো ধানের চারা লাগানো হচ্ছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









