গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আছে হাজারো দেশী বিদেশী প্রাণীর মহামিলন। জীবিত প্রাণী দর্শনার্থীদের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ইতোমধ্যে মৃত প্রাণীও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে কাজ শুরু করেছে সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষ। পার্কে নানা ভাবে মৃত প্রাণীকে ট্যাক্সিডার্মি পূর্বক সংরক্ষন করে তাকে স্থান দেওয়া হচ্ছে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে। যেখান থেকে দর্শনার্থীরা এসব প্রাণীর বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে পারবে।
সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে ট্যাক্সিডার্মি হলো শিল্প এবং বিজ্ঞানের অনন্য সংমিশ্রণ যা বিলুপ্ত ও বিপন্ন প্রায় প্রাণীকুলের পরিচিতি ও তথ্য জানতে দর্শনার্থীদের সহায়তা করবে। সাধারণত গবেষণা ও পাঠদানের উদ্দেশ্যে মৃত প্রাণীকে ট্যাক্সিডার্মি করা হয়। মৃতপ্রাণীর শরীরকে(প্রধানত চামড়াকে) রাসায়নিক ও ট্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষনের প্রক্রিয়া ও তাকে জীবন্তের ন্যায় দেখানোর উপায়কে ট্যাক্সিডার্মি বলা হয়। সাফারী পার্কের হাজারো প্রাণীদের মধ্যে নানা ভাবে প্রতিবছর অনেক প্রাণী মারা যায়।
এসব মৃত প্রাণীকে সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এর জন্য একজন ট্যাক্সিডার্মিষ্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পার্কে ১৫টির অধিক প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি করা হয়েছে। এসব প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ময়ূর, বিদেশী হাঁস,ও নানা প্রজাতির বিলুপ্ত ও বিপন্ন বন্য পাখি। পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাক্সিডার্মিষ্ট পঙ্কজ চন্দ্র পাল জানান, মৃত প্রাণীগুলোর বিশেষ পদ্ধতিতে তার শরীরের বিভিন্ন পচনশীল অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রাসায়নিক দিয়ে শুকিয়ে তাতে তুলা ও তার দিয়ে ঠিক জীবিতের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
একটি প্রাণী ট্যাক্সিডার্মি করতে ৪-৫দিন সময় লাগে। নিখুঁত ভাবে কাজ করতে অনেকটা শ্রম দিতে হয়। তিনি আরও জানান, স্তণ্যপায়ী প্রাণী, পাখি, মাছ, সরিসৃপ সহ অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণীর উপর ট্যাক্সিডার্মি প্রয়োগ করা হয়। এছাড়াও বড় আকারের কীট পতঙ্গের উপরও ট্যাক্সিডার্মি প্রয়োগ করা হয়।
এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, অনেকেই শখের বশে পোষা প্রাণী সহ বিভিন্ন প্রাণীকে ট্যাক্সিডার্মি করে শোপিচ হিসেবে ব্যবহার করলে বাংলাদেশ বন বিভাগ বিলুপ্ত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি করে আসছে বেশ কয়েকবছর আগে থেকেই। এরই ধারাবাহিকতায় সাফারী পার্কে বিভিন্ন মৃত প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি করা হচ্ছে।
এসব প্রাণী প্রার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে স্থান দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রাণীর বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। সর্বোপরী এটি একটি শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া। সাফারী পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে বনবিভাগের বহু দেশী বিদেশী প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি রয়েছে। বর্তমানে পার্কের নিজস্বভাবে ট্যাক্সিডার্মি শুরু হওয়ায় এর পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
আনন্দবাজার/এইচ এসস কে/ এম এইচ









