অবশেষে তিন দিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলার আসামী নিখোঁজের রহস্যভেদ করলো তদন্ত কমিটি। কারাগারের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল টপকে পালিয়েছে হত্যা মামলার সেই আসামী ফরহাদ হোসেন রুবেল। সোমবার (৮মার্চ) সারাদিন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দিয়ে ড্রেন, সেফটিক ট্যাংকে তল্লাশি চালানোর পর ঘটনার দিনের সিসি টিভির ফুটেজ যাচাই করে রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি প্রিজন্স মো. ছগির মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, কারাগারের সেলে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, হাজতি রুবেল ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের ৫ তলার ১৫ নম্বর কক্ষ থেকে বের হন। সেখান থেকে বের হয়ে বাইরের পানির ট্যাংক থেকে হাত মুখ ধুয়ে নেন। এরপর ওই ভবন থেকে নীচে নেমে সাঙ্গু ভবনের পাশে অবস্থিত ফাঁসির মঞ্চের দিকে চলে যান। এরপর থেকে তার আর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না সিসি ক্যামেরায়। তাই তদন্ত কমিটির ধারণা, ফাঁসির মঞ্চের পাশ দিয়ে কারাগারের উচু দেয়াল টপকেই হাজতি রুবেল পালিয়ে গেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি প্রিজন্স মো. ছগির মিয়া জানান, ‘রুবেল পালিয়েছে সেটা শতভাগ সত্য। কোন পথে পালাতে পারে তা নিশ্চিত হতে সম্ভাব্য সব কিছুই যাচাই করা হয়েছে। ঘটনার দিনের সিসি টিভির ফুটেজ দেখেছি। কোনো কোনো ফুটেজে তার উপস্থিতি মিললেও আবার কোনো কোনো ফুটেজে তার উপস্থিতি নেই। তবে একটি ফুটেজে তাকে ফাঁসির মঞ্চের পাশের দেয়ালের দিকে যেতে দেখা গেছে। আবার ওদিকে একটি বিড়ালেরও উপস্থিতিও দেখেছি। তাই প্রাথমিকভাবে তার পালানোর বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট। তবে এ কাজে তাকে কেউ সহযোগিতা করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সদরঘাট থানার এসআরবি রেল গেইট এলাকায় আবুল কালাম আবু নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন রুবেল। ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে নগরের সদরঘাট থানায় হওয়া একটি হত্যা মামলায় মিস্ত্রিপাড়া থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে সদরঘাট থানা পুলিশ। ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। তার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায়।
গত (৬ মার্চ) ভোর ছয়টায় আসামিদের হাজিরা গণনার সময় রুবেলের অনুপস্থিতি কারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে কারা অভ্যন্তরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গতকাল বন্দি রুবেলের খোঁজে কারাগারে তল্লাশি চালায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিমের সদস্যরা। তবে ২০১৮ সালেও রুবেল কারাগারে গেলে সেসময় দুবার কারাগারের ড্রেনে ও ছাদে আত্মগোপন করেন। সেসময় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার তদন্তে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি প্রিজন মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি গতকাল সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আরেকটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত রোববার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার ও ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহারসহ দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক








