বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতায় ও উন্নত বিশ্বের সহযোগিতায় ২০৩০ সাল নাগাদ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রশমন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। যা দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে। এ তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাংলাদেশের আপডেটেড এনডিসি ২০২১ ডিসেমিনেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ পরিকল্পনা বা হালনাগাদ করা ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। এটি বৈশ্বিক উষ্ণতাকে প্রাক-শিল্প স্তরের ১.৫-২ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বৈশ্বিক উদ্যোগকে সমর্থন করবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়,বিভাগ, অধিদপ্তর,এজেন্সি বা সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেই আমাদের এ এনডিসি বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং সমন্বয় করবে। এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১-এর সঙ্গে সংগতি রেখে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি নিম্ন-কার্বন, জলবায়ু-সহনশীল উচ্চ-মধ্য-আয়ের অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোর (ইউএনএফসিসি) আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের লক্ষে ২০১৫ সালে প্রণীত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালে বাংলাদেশ গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণের মাত্রা ২০৩০ সাল নাগাদ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইন্টেন্ডেড ন্যাশনালী ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (আই-এনডিসি) পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
সরকার দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী দলিলসমূহে ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়সমূহ সন্নিবেশিত করছে। সম্প্রতি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ এই এনডিসি হালনাগাদের কাজ করেছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপডেটেড এনডিসি ডিসেমিনেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্ট্যাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী প্রমুখ।
আনন্দবাজার/শহক









