রাজধানী ঢাকার সোয়ারীঘাটের পুরোনো লোহার ড্রামে বদলে দিচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের দুই গ্রামের মানুষের ভাগ্য। এ ড্রাম ব্যবসার ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে তিন শতাধিক মানুষের।
প্রায় ৩০ বছর আগে নবীপুর গ্রামের সুরুজ মিয়া ড্রাম ব্যবসার সূচনা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে এ ব্যবসা। নবীপুর ও দড়িলাপাং গ্রামের ব্যবসায়ীরা সোয়ারীঘাট থেকে লট হিসেবে তেল ও বিটুমিনের পুরোনো ড্রাম কিনে আনেন। একেকটি ড্রাম কেনার পর ধুয়ে-মুছে রং করে বিক্রির উপযোগী করতে মোট ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ড্রামগুলো মূলত ধান, চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
ড্রামগুলো বিক্রির জন্য নদীপথে নৌকায় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই গ্রামে বড় ব্যবসায়ী আছেন ২৫ থেকে ২৬ জনের মতো। আর ছোট ব্যবসায়ী আছেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের বড় নৌকা আছে ২৫টি এবং ছোট নৌকা আছে ৩ থেকে ৪টি। বড় নৌকাগুলোতে ৪০০ পিস ড্রাম এবং ছোট নৌকাগুলোতে ১০০ পিস ড্রাম ধারণ করে।
ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় এসব ড্রাম। প্রতিটি ড্রাম বিক্রি হয় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। প্রতিমাসে নবীপুর ও দড়িলাপাং থেকে প্রায় ২০ হাজার ড্রাম বিক্রি হয়। যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
নবীপুর গ্রামের সৈয়দ হোসেন জানান, ড্রাম ব্যবসার কারণে তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। ড্রাম মেরামতের কাজ করে একেকজন শ্রমিক দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করতে পারেন।
দড়িলাপাং গ্রামের কবির মিয়া বলেন, ড্রাম ব্যবসা করে আমাদের দুই গ্রামের অনেকের ভাগ্যবদল হয়েছে। তবে পুঁজির অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে না। যদি আমাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এই ড্রাম ব্যবসা আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতার জন্য আবেদন করেন, তাহলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু করা যায় কি না- সেটি আমরা দেখব।









