- সখিপুরে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২ শতাংশ সংগ্রহ
- খোলা বাজারে দাম বেশি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া আমন ধান সংগ্রহ অভিযান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। এ মৌসুমে ৭৭২টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মোট ধান সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ টন। সাড়ে তিন মাস পার হলেও লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২ শতাংশ ধানও সংগ্রহ করতে পারেছে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, অ্যাপে নিবন্ধন, লটারিসংক্রান্ত ঝামেলা ছাড়াও খাদ্যগুদামে ধান দিতে খরচসহ নানা ঝক্কি পোহাতে হয়। তাই তাঁরা খাদ্যগুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। সরকারি ক্রয়মূল্য প্রতিমণ এক হাজার ৮০ থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১২০০ টাকা করতে হবে। তা না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। কারণ বাজারে এখন ধানের দাম এক হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া কৃষিকার্ড নিয়ে অনলাইনে আবেদন, ব্যাংক চেকের মাধ্যমে দাম পরিশোধ, আদ্রর্তা মাপা, পরিবহন খরচসহ নানা ঝামেলার কারণে তারা ধান বিক্রিতে আগ্রহ পান না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে হলে প্রথমে অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের নাম নিবন্ধন করতে হয়। এ কাজ করতে অধিকাংশ কৃষকই পারদর্শী নয়। অ্যাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রচার-প্রচারণারও অভাব আছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
অ্যাপে নিবন্ধনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে লটারি হয়। লটারিতে যাঁরা নির্বাচিত হন, মূলত তাঁরাই গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন। আবার খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে হলে সঠিক আদ্রতা, পরিবহনের খরচসহ গুণগত মান যাচাইয়ের জটিলতায় পড়তে হয় কৃষকদের। এ কারণে তাঁরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন।
বোয়ালী গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, নিবন্ধন, লটারির ঝামেলা ছাড়াও খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে অনেক খরচ পড়ে। আবার এক টন ধান গুদামে ঢোকাতে গেলে শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দিতে হয়। তবে সরকার যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি ধান ক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপন করে, তাহলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে সহস্রাধিক কৃষক স্বেচ্ছায় অনলাইনে আবেদন করেন। উপজেলায় এবার আমন ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৭২ টন। প্রতি কেজি ধান ২৭ টাকা দরে এবং প্রতিমণ এক হাজার ৮০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করার জন্য সরকারি নির্দেশনা ছিল। প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন। গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে এ উপজেলায় খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। ধান সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ৫ কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ১৫ টন ধান সংগ্রহ করা গেছে। হাটবাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক গুদামে ধান নিয়ে আসছেন ।
দাড়িয়াপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান বলেন, তিনি সরকারের কাছে তিন টন ধান বিক্রি করে ঠকেছেন। গুদামে ধান বিক্রিতে নানা ঝামেলা। গুদামের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধানের আদ্রর্ত পরীক্ষা করে সরকারি নির্দেশনামতো হলে তারপর ধান কিনে থাকেন। এ ছাড়া পরিবহন খরচ তো আছেই। আরও নানা ঝামেলা আছে। অন্যদিকে বাজারে ১ নিয়ে ধান বিক্রি করলে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। কৃষকের স্বার্থের কথা ভেবে সরকারিভাবে ধানের দাম আরও বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম ফাহিম বলেন, উপজেলার হাটবাজারগুলোয় ধানের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই বাজারদর অব্যাহত থাকলে খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনো অবস্থায়ই সম্ভব নয়।









