দেশে প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও দক্ষজনশক্তির অভাবে অনেক কল-কারখানা অচল হয়ে পড়ে আছে। তাছাড়া বিদেশেও চাহিদা অনুযায়ী লোকবল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনটাই জানাচ্ছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি বীরপ্রতীক। মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্ষির বাজার সব সময়ই রয়েছে। তবে আমাদের দেশে আশানুরূপ সেই জনশক্তি নেই। যদিও প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে তাদের বিশাল সংখ্যকই অদক্ষ। ফলে তারা চাকরি পায় না। আর দক্ষ জনশক্তি তো আকাশ থেকে পড়বে না। তৈরি করতে হবে।
গত সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সেকেন্ড ন্যাশনাল কনফারেন্স অব এসডিজি’স ইমপ্লিমেশন রিভিউ (এসআইআর)-২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এদিন প্যারালাল সেশন-৩ এ ‘রিভিউইং এসডিজি’স এক্টিভিটিজ আন্ডারটেকেন বাই মিনিস্ট্রিজ/বিভিশনস’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
মন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট সেক্টরের কাজের দিয়ে চোখ দেয়া দরকার। কেননা সরকারের এক ও প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ ৩ ভাগ। অতএব এ ক্ষেত্রে কাজ বাড়াতে হবে। আর দক্ষ শ্রমিক নিয়ে কাজ করার কথা বলা হলে বাজারে দক্ষ শ্রমিক নেই। গ্রাম থেকে অনেক অদক্ষ শ্রমিক এসে কাজ পায় না। আর দক্ষ শ্রমিকরা দ্রুত প্রতিষ্ঠান পাল্টায়। এক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয়, শিশুমৃত্যু হার হ্রাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আলোচক ছিলেন এফবিসিসিআইয়েরর সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সাবেক প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বের প্রশংসা পাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষানীতিতেও দেশ এগিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্দর্শিতায় আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ই এসডিজি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন করা হলে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ করা সম্ভব। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। কোভিড-১৯ অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বিভিন্ন সেক্টরে। এলডিসি হিসেবে এক কেন্দ্রিক সুবিধা যা ছিল তা কিন্তু থাকবে না। এক্ষেত্রে এসব সমস্যা কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৬০০ মিলিয়ন ডলারের বিশ্ব চাহিদা আরএমজিতে। সেখানে মাত্র কয়েক শতাংশ রপ্তানি করছি। এক্ষেত্রে নতুন আইটেম যুক্ত করতে হবে। জিএসপি প্লাসে যেতে হলে সুতা তৈরি ও কাপড় নিজস্ব তৈরি করতে হবে। শুধু কাপড় বানিয়ে বিক্রি করলে চলবে না। অন্তত দুটি প্রডাক্ট নিজেদের তৈরি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সব পণ্যের দাম বাড়ছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় প্রভাব পড়ছে। এক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে হলে বাজেট বাড়াতে হবে।
মো. শরিফুল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এসবের গঠনমূলক আলোচনা দরকার। ২০১৫ সালে আমরা জাতিসংঘের এফডিজি অর্জন করে বাংলাদেশ। যদিও এটি ২০১৩ সালে করার কথা ছিল। এটি নিয়ে জাতিসংঘের প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার হার, গড় আয়ু সব বাড়ছে। আমরা সব দেশের সব ধরনের ঋণ নেই না।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার মল্লিক বলেন, শ্রমিকরা যখন বিদেশে যাবে তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিতে কাজ করা হয়। বিদেশে যেতে যে ব্যয় হয় তার তুলনায় আয় যেন বেশি হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ৪টি বিভাগে ৪২টি জেলায় ইমপ্লয়মেন্ট ম্যান পাওয়ার অফিস ও ৬৪টি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে ৭ম ও দক্ষিণ এশিয়ায় ৩য় স্থানে রয়ে রেমিট্যান্স অর্জনে।করোনায় ফিরে আসা শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
বিশ্বের কতগুলো দেশে জনশক্তি প্রেরণে চুক্তি আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৮টি দেশের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। আমরা তাদের চাহিদা মোতাবেক শ্রমিক প্রেরণের চেষ্টা করছি। তবে তাদের সব চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বিদেশে নারী নির্যাতনের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে বলেন, আমাদের ২৯টি উইং এর মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









