চিকিৎসার নামে ভন্ড কবিরাজের শারিরীক নির্যাতনে সোহেল রানা (১৬) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের সরঞ্জাবাড়ি গ্রামে। সে ওই গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আনোয়ার হোসেন (৪৫), শফিকুল ইসলাম(৫০) ও মোকাব্বর হোসেন (৫৫)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সরঞ্জাবাড়ি গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে সোহেল রানা গত দুই বছর আগে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়। ডাক্তারি চিকিৎসার পর সে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। তবে, তার একটি পা বাঁকা থেকে যায়। এ বাঁকা পা নিয়ে সে চলাফেরা করত। নিহতের মা খালেদা বেগম জানতে পারেন মাগুরা শাহপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র মোকাব্বর হোসেন পক্ষাঘাত রোগে আক্লান্ত অনেক রোগীকে সুস্থ করেছেন। এমন খবর পেয়ে সোহেল রানার মা খালেদা বেগম কবিরাজ মোকাব্বরকে ডেকে পাঠান। সে অনুযায়ী কবিরাজ তার দুই সহযোগী একই গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মহির উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলামকে নিয়ে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে শুরু হয় চিকিৎসার নামে শারিরীক নির্যাতন।
সোহেল রানার মা খালেদা বেগম আরও জানান, কবিরাজ মোকাব্বর হোসেন প্রথমে বিভিন্ন গাছের লতাপাতা গুড়ো করে তা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেই পাতার রস এবং ভাজা তেল মিশিয়ে শরীরে মালিশ করতে থাকেন। শরীরে মালিশ শেষে কবিরাজের দুই সহযোগি দুই পায়ে ইট বেঁধে সেই ইটের উপর পা দিয়ে চাপ দিলে তাঁর পা ভেঙ্গে যায়। পা ভেঙ্গে গেলে সেই ভাঙ্গা পায়ে গরম বালুর সেক দেয়া হয়। এসময় আমার ছেলে পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি খেতে দেয়া হয়নি। তাদের এসমস্ত চিকিৎসা প্রদানে বাঁধা দিলে তারা আমাকে নানা ভয়ভীতি দেখায়। টানা তিনদিন এরকম অপচিকিৎসার পর আমার ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই তিন ভন্ড কবিরাজকে আটক করা হয়। পুলিশ এসে তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রাজীব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত সোহেল রানার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কেরামত আলী বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।









