প্রথম দেখায় যেকেউ মনে করবেন কোন প্রাকৃতিক শাপলা বিল এটি। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে এ শাপলা বাগান।
লক্ষীপুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামে গড়ে তোলা এ বাগানটি আপন সৌন্দর্য্যে নয়নাভিরাম মুগ্ধতা বিলিয়ে যাচ্ছে। রক্তলাল বর্ণের ফুটে থাকা হাজার হাজার শাপলা ফুলে ভরা মনমুগ্ধকর এ বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকাসহ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে দর্শনার্থীরা। লক্ষীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জের পূর্ব চরমনসা গ্রামে প্রায় ২ একর জমিতে জলা কেটে পরিকল্পিতভাবে এ বাগানটি গড়ে তোলেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী জাহাঙ্গীর হোসেন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কোন প্রকার বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াই শুধুমাত্র সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ জমিতে বাগানটি গড়ে তোলেন।
বছর তিনেক আগে গড়ে তোলা এ বাগানটি দেখভালসহ নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক। নির্ধারিত হারে তাদের পারিশ্রমিকসহ বাগান কেন্দ্রিক আনুষাঙ্গিক যাবতীয় ব্যয় বহন করেন উদ্যেক্তা নিজেই। প্রতিদিন সকাল-বিকাল সৌন্দর্য্য পিয়াসী মানুষ বাগানটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে ভোরবেলায় দর্শনার্থী বেশী আসেন। কারণ সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা বাগানের লাল শাপলা পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে নয়নাভিরাম মুগ্ধতায়। ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামের এ শাপলা বিল দেখতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও আসেন বলে জানায় স্থানীয়রা। তারা আরও জানায়, বাগানটিতেই গড়ে তোলার পেছনে উদ্যেক্তার কোন প্রকার অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্য না থাকলেও অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন এখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বাগানটির পাশে আগে দু'তিনটি দোকান থাকলেও বাগান সেজে উঠার পর এটিকে ঘিরে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। এগুলোর বেশীরভাগই চা-নাস্তার দোকান। দর্শনার্থী আসা যাওয়া থাকায় আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
দর্শনার্থীরা এমন উদ্যেগের প্রশংসা করে জানান, প্রত্যন্ত গ্রামে সবুজ গাছগাছালী সমৃদ্ধ প্রকৃতি ছাড়া দর্শন মুগ্ধতায় ভাললাগার আস্বাদন গ্রহণে তেমন কোন কিছুই নেই। শাপলা বাগানটি অন্যরকম এক ভাললাগার সৃষ্টি করেছে। সাহেব বাড়ি শাপলা বাগানের উদ্যেক্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখনকার সময়ে নানান ছুতোয় গ্রামাঞ্চলেও প্রকৃতি উজাড় হচ্ছে। অথচ প্রকৃতি অক্সিজেন ও সৌন্দর্যের ভান্ডার। সবুজ প্রকৃতি লালন ও এর সমৃদ্ধির চিন্তা থেকেই এমন পরিকল্পনা তাঁর। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের প্রায় ২ একর জমিতে শাপলা চাষের উপযোগী খনন ও সেচ কাজ সম্পন্ন করেন। শেষে দিনাজপুর থেকে রক্ত বর্ণের শাপলা বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ করেন। এ বাগানের জমে থাকা শ্যাওলা ও আগাছা উৎপাদনে বাগান পরিচর্যার তিনি নিজেও সশরীরে কাজে নেমে পড়েন।
এসময় তিনি আরও জানান, শাপলা বাগান তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয় তাঁর উদ্যেগ। গ্রামের রাস্তার পাশে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে তিনস্তর বিশিষ্ট গাছ লাগাচ্ছেন। এর মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ রয়েছে। একইসঙ্গে পাখপাখালীর অভয়ারণ্য ও পাখির খাবার আহরনের সুবিধা ক্ষেত্র সৃষ্টিতে তিনি ধীরে ধীরে কৃত্রিম অরণ্য গড়ে তুলছেন। গ্রামে শিশুদের ভালো লাগার সহায়ক পরিবেশ সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর








