কাজ না করেই এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সঙ্গে বৈঠকে কে এম নূরুল হুদা তার দায়িত্বের পাঁচ বছর মেয়াদে নানা কর্মযজ্ঞের কথা তুলে ধরে এ অভিযোগ করেন।
কে এম নুরুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, বদিউল আলমকে ড. হুদা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী কাজ দিয়েছিলেন। আর ওই কাজে লাখ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ড. শামসুল হুদা কমিশন এবং বদিউল আলম মজুমদারের করা নানা সমালোচনার কড়া জবাব দেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শামসুল হুদা সাহেব সেদিন কিছু ছবক দিয়ে বললেন, নির্বাচন কমিশনের অনেক কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু করেনি। নানা কাজ করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এক সময়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তার এ কথাগুলো মোটের আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। একটা লোক সবকিছু করে একেবারে বাহবা নিয়ে যাবে, এটা সম্ভব না। তার জন্যও সম্ভব না। এখন তিনি নিজে তার অহমিকাবোধ থেকে অথবা তিনি আমিত্ববোধ থেকে অনেক কিছু করতে পারেন। কিন্তু সেটা সম্ভব না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরে। তিনি নির্বাচন করেছিলেন ৬৯০ দিন পরে। এই সাংবিধানিক ব্যত্যয় ঘটানোর অধিকার তাকে কে দিয়েছিল?
তিনি বদিউল আলম মজুমদারকে নিয়োগ দিয়েছেন কিসের ভিত্তিতে? সেখানে কী কোনও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, কোনও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল? তাহলে লাখ লাখ টাকা তাকে কিভাবে দিলেন! লাখ লাখ টাকার অভিযোগ আছে, সেটা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই লোক যেন এখানে না আসতে পারে। এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনেক অনিয়ম আছে। এরকম অনেক কিছু বলা যায়।
বদিউল আলম মজুমদারের উদ্দেশ করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, তিনি হাফিজ সাহেব, আলিম সাহেবসহ ১০-১৫ জন লোক নিয়ে একদিন আসলেন। একটা বড় বই দেখিয়ে বললেন, এই কাজটা আমরা করেছি। বললেন, প্রার্থীদের হলফনামা সংগ্রহ করে ছাপিয়েছি। বারবার বলেন, আমি শামসুল হুদা কমিশনের সময় কাজ করেছি। উনারা যাবার পর কর্মকর্তারা জানালেন, উনার বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। কাজ না করেই টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। তারপরে কমিশন সভায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এরপর আমি সাবধান হয়ে গেলাম। এরপর তিনি ছাড়েন না, বারবার টেলিফোন করেন, সাক্ষাৎ করতে চান। বারবার বলেন, ড. শামসুল হুদা কমিশনের সময় প্রচুর কাজ করেছি।
আনন্দবাজার/এম.আর









