ভূত নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকাহিনী। ভূতের গল্প নিয়ে বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের শিশুতোস বই। যদিও আধুনিক যুগে তা অনেকটাই কদর হারিয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও বয়ষ্ক দাদা-দাদি, নানা-নানির কাছে ভৌতিক অভিজ্ঞতার গল্প প্রায়ই শোনা যায়। অনেক সময় তারা ভূতের গল্প শুনিয়ে বাড়ির শিশুদের মনে ভয়ের সঞ্চার করেন। এতে শিশুরা কিছুটা দমিয়ে থাকে এবং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দিতে শিশুদের সেকালের ভূতের গল্প যেন তাদের হাতের নাগালেই। রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার শিশুপার্কে নির্মিত হয়েছে ‘ভূতের ঘর-সংসার’ নামের একটি রাইড। নতুন এ সংযোজন যেন গল্প নয়, সাক্ষাত ভূতের রাজ্য। শিশুদের জন্য যা চালু হবে ১৪ জানুয়ারি। নির্মাতারা বলছেন শিশুপার্কে এ অঞ্চলে ভূত নিয়ে এটাই প্রথম রাইড। যা দেখে শিশুরা অনেক মজা পাবে।
রংপুর বিভাগে সরকারিভাবে একমাত্র শিশুপার্ক রংপুর চিড়িয়াখানায়। আগে থেকেই সেখানে রয়েছে শিশুতোস বিভিন্ন রাইড। এর মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রিক বুলেট ট্রেন, থ্রিডি মুভিজ, মেরিগো রাউন্ড, ডেঞ্জার রোলার বোট, মিউজিক ফাইটার প্লেন, স্পাইডার ক্রেডল। নতুন নতুন এসব রাইডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একেবারে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ভূতের ঘর-সংসার। প্রায় ৮ মাস ধরে মাটির নিচে নির্মিত হয়েছে নতুন এ রাইডটি। যা শিশু পার্কটিকে শিশুদের জন্য আরো বেশি সমৃদ্ধ করবে।
প্রবেশমুখে পা রাখলেই গা ছমছম করবে। অন্ধকার গলি দিয়ে ভিতরে যতই পা বাড়াবেন, ততই রোমাঞ্চকর লাগবে। ভয়ের সঙ্গে বিনোদন-এ যেন অন্যরকম ভালোলাগা। প্রায় অর্ধশতাধিক ভূতের সাদৃশ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে ভূতের ঘর-সংসার। যেখানে দেখা যাবে ঝরনায় গোসল করার দৃশ্য, হু হা, হাহা, খিল খিল হাসি, ভয় দেখানোর অট্রহাসির নাচ, গাছের ডালে নানা ভঙ্গিমায় ভূতের আড্ডা, চুলায় রান্নার দৃশ্য, খাটলিতে লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া, বন্দিজীবনের দৃশ্য। আরো রয়েছে অন্ধকার গলিতে পা বাড়ালেই সামনে আলো-পিছনে অন্ধকার, ধোঁয়ার কুন্ডলি, সাদা ধবধবে পোশাকে ভূতের সাদৃশ্য।
শিশুদের সর্বোচ্চ রোমাঞ্চের মধ্যদিয়ে বিনোদন দিতেই ভূতের ঘর-সংসার নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনাকারী ও রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার রমজান আলী তুহিন। তিনি বলেন, স্বল্প টিকিটমূল্যে শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষসহ সব বয়সি মানুষ যাতে রংপুর চিড়িয়াখানার শিশুপার্কে প্রবেশ করে রোমাঞ্চকর বিনোদন নিয়ে ফিরতে পারেন সে জন্যই এ ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া এ ভূতের ঘর-সংসার থেকে শিশুদের ভূতের ভয় কাটবে অবশ্যই।
আনন্দবাজার/এম.আর









