- মেডিকেল টিম গঠন
রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ১১০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে সদর হাসপাতালে। ডায়রিয়ার কারন অনুসন্ধান ও চিকিৎসার প্রদানে ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১১টি আসনের বিপরীতে শতগুন রোগী বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। গত মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে আছে ১শ’ জন ডায়রিয়া রোগী। শুধু মেঝেই নয় যে যেখানে জায়গা পেয়েছে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজবাড়ী জেলা সদরের ধুনচী এলাকার বাসিন্দা ফজলু শেখ বলেন, গতরাতে ডায়রিয়া নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। আরেক ডায়রিয়া রোগী রোকেয়া বেগম বলেন, আমার মত শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা।
সদরের লক্ষীকোল এলাকার গৃহবধূ পূর্ণিমা রানী বলেন, আমি গতকাল অসুস্থ হয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বেশির ভাগ ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনতি রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমানে রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে ১২টি ও ১০টি ফ্লোরিংয়ের ব্যবস্থা আছে। বেড সংখ্যা কম থাকলেও ওষুধপত্র সব পর্যাপ্ত আছে। সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, রাজবাড়ীতে গত কয়েকদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে ফ্লোরেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও নার্সরা আছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে পানি শূন্যতা যেন না হয় এ জন্য পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। তবে কোনো রোগীর পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীর সংখ্যা বেশি হলে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম টিটন জানান, গত ৩ দিন পর্যন্ত দেড়শত জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।
ডায়রিয়ার কারন অনুসন্ধান ও চিকিৎসার প্রদানে ৩ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ৩ টি মেডিকেল টিম গঠন করে কারন অনুসন্ধান করা হচ্ছে।পাশাপাশি ভালো ভাবে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সহ খাবার স্যালাইন বেশি বেশি খেতে হবে। সকল কে সচেতন হতে হবে।









