- করলা চাষে লাভ বেশি
- ৬০ হাজারের পুঁজিতে আয় ২ লাখ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিন্দুরখান ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে করলা চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এ গ্রামের একাধিক চাষি করলা চাষে লাভের চোখ দেখছেন। শুধু জমিতেই নয়, গ্রামের চাষিরা বাড়ির আঙিনায়, ঘরের চালে, গাছে গাছে ঝুলছে নানান জাতের করলা। কেউ লাগিয়েছেন লালতীরের হাইব্রিড টিয়া, কেউ টিয়া সুপার।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের কৃষকরা সবাই ব্যস্ত করলা মাঠে। কেউ গাছ থেকে করলা তুলছেন। কেউবা মাছা ঠিক করছেন। কেউ গাছের গোড়ায় নিরানী দিচ্ছেন, কেউবা বসে আছেন সেচযন্ত্র চালিয়ে। এমন দৃশ্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ‘বনগাঁও’ গ্রামে। অনেকে এ গ্রামটির নাম দিয়েছেন করলা গাঁও। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এই গ্রামের দুরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার।
জানা যায়, চলতি খরিফ-১ মৌসুমে এ গ্রামের কৃষকরা মাঠের পর মাঠ করলা চাষ করেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা করলা বিক্রি করছেন। পাইকাররা এলাকায় পারেরটং কালেকশন পয়েন্ট থেকে করলা কিনে নিচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মণ করলা উঠছে কালেকশন পয়েন্টে। এ উপজেলার বিভিন্ন ছোট বড় হাটবাজার ছাড়াও ঢাকা, ভৈরব, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পাইকাররা এসে এখান থেকে গাড়ি বোঝাই করে করলা কিনে নিচ্ছেন।
চাষি মুঈন মিয়া জানান, তিনি ৭০ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। ফলন খুব ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ৩ হাজার ৩৩০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। প্রথমে দাম পেয়েছেন ৬৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। পরে বিক্রি করেছেন ৪২ টাকা। করলা চাষে তার খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ মাঠ থেকে টানা তিন মাস তিনি করলা বিক্রি করবেন। আর খরচ বাদে তার আয় হবে ২ লাখ টাকা।
শফিক মিয়া জানান, তিনি ২৪ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। ৪২ টাকা দরে ৪০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। আরও ৭০০ কেজি বিক্রি করতে পাবেন। খরচ বাদে তার আয় হবে ১ লাখ টাকা। একইভাবে গ্রামের মনির হোসেন ৭৫ শতক, রাজিব ৬০ শতক, মন্নান ১৫ শতক, শফিক মিয়া ৪৫ শতক ও জলিল মিয়া ৩০ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন।
জানা যায়, হাইব্রিড টিয়া ও টিয়া সুপার জাতের করলা তীব্র শীত ব্যতীত সারাবছরই চাষ করা যায়। সঠিক পরিচর্যায় একর প্রতি ফলন হয় ১২ থেকে ১৪ টন। একেকটি করলা ২৮ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ওজন হয় ২৮০ থেকে ৩০০ গ্রাম। রং সবুজ, স্বাদে মাঝারি তিতা ও সুস্বাধু। এ জাতের করলা উঁচু দো-আাঁশ মাটিতে রোপণ করতে হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, ‘বনগাঁও গ্রামে এবার ৯ বিঘা জমিতে হাইব্রিড টিয়া ও টিয়া সুপার জাতের করলা চাষ হয়েছে। এ দুটি জাতই ভালো ফলন দিয়েছে। কৃষকরা টানা তিন মাসে মাঠ থেকে প্রায় ৪০ হাজার কেজি করলা তুলতে পারবেন। আর বাজারে বার মাসই করলার চাহিদা রয়েছে। তাই করলা চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক।









