মারমা জনগোষ্ঠিদের সাংগ্রাইং উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি শহরের পানখায়াপাড়া বটতলা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করে মারমা উন্নয়ন সংসদ ও মারমা যুব কল্যাণ সংসদ। ফিতা কেটে আলারী ও ধ খেলা উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আজকের মারমা কল্যাণ সংসদ আয়োজিত খেলাধুলা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। আমরা সবাই সবার উৎসবে অংশ নেব। বৈসাবি উৎসব খুবই ভালো যাবে। আমরা খুবই হইচই করব।
সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী বলেন, বাংলা সনের বিদায় এবং নতুন বছর বরণে এ শুভক্ষণে পার্বত্য জনপদে মারমা উন্নয়ন সংসদ চিরচারিতভাবে দীর্ঘদিনের লালিত নিজস্ব সংস্কৃতি। বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণ এ মূহুর্ত এ জনপদের মানুষের খুবই আকাক্সক্ষা খুবই প্রতাশার। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে মারমাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা ধ খেলা ও আলারী খেলার মাধ্যমে সাংগ্রাইং উৎসব শুরু হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা বাইস চেয়ারম্যান বাসরী মারমা বলেন, মারমা উন্নয়ন সংসদ হওয়ার পর ১৯৮২ সাল থেকে মারমাদের ঐতিহ্য আলারী খেলা ও ধ খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সাংগ্রাইং উৎসব আসলে এ খেলাধুলা চলে। সকল বয়সিরা খেলে আনন্দিত হয়। ৬ ও ১২ জনের দল বেঁধে খেলা হয় প্রতিযোগিতামূলক। যুগ যুগ আগে প্রতিযোগিতা হয়ে খেলা হত না। এখন প্রতিযোগিতা মূল খেলা হয়। আমরা কী ভাবে বিজয়ী হব। সবার আগে এগিয়ে যেতে হবে। আমার দলটা যাহাতে নাম হয়। ওই ভাবে খেলা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, জেলা পরিষদের সদস্য মংকেচিং চৌধুরী, মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চাইথোং মারমাসহ মারমা উন্নয়ন সংসদের নেতারা। এদিকে আগামী ১৪ এপ্রিল মারমাদের সাংগ্রাইং উৎসবের প্রধান দিনে পানি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই মারমা উন্নয়ন সংসদের কার্যালয়ের মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি রাখা দুই নৌকা ভর্তি পানি রাখা হবে। এ সময় এক অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে দিয়ে নতুন বর্ষ বরণ করবেন মারমা জনগোষ্ঠির মানুষরা।









