নরসিংদীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর রশি দিয়ে বেঁধে পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে সদর থানা পুলিশ নজরপুর ইউনিয়নের বুদিয়ামারা এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে। নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আরিফা বেগম ওরফে দিপা বুদিয়ামারা এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে আরমান গাজীর স্ত্রী ও সদর উপজেলার আলোকবালী গ্রামের কাজী ওমর ফারুকের মেয়ে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের পিতা কাজী ওমর ফারুকের অভিযোগ, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে স্বামী আরমান গাজী যৌতুকের টাকার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিয়ে আসছিল। কয়েক দফায় তাকে দুই লাখ টাকা দেয়া হলেও স্বামী আরমান পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই দিপাকে মারধর করতো। অত্যচারের কারণে মেয়েকে কয়েকবার বাসায় নিয়েও রেখেছিলেন পিতা ওমর ফারুক।
পরে তিন সন্তানের কথা ভেবে তাকে আর মারধর করা হবে না এমন শর্তে স্ত্রী দিপাকে ফিরিয়ে নেয় স্বামী আরমান। পরে শুক্রবার সকালে পুলিশ স্বামীর বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে দড়ি দিয়ে বাঁধা ও লেপ তোষক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, পুকুর থেকে লেপ-তোষক দিয়ে মোড়ানো ও রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাতের কোন এক সময় এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবার থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।









