প্রকৃতি এখন হেমন্তের মাঝামাঝিতে। হালকা কুয়াশা চারিদিকে। কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো ফুটছে। কুয়াশা কাটতে না কাটতেই বিলের দিকে ছুটছেন মানুষ। সারিবদ্ধ লাইন ধরে রসুন ক্ষেতের মেঠো পথে মানুষের ঢল। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য সবার কাঁধে মাছ ধরার সরঞ্জাম। যাচ্ছেন সবাই বিলের বাউৎ উৎসবে। এ যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য্য।
গত শনিবার সকালে চলনবিলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়ায় রুহলবিলে মাছ ধরার উৎসব। পলো ও বিভিন্ন প্রকার জাল নিয়ে হাজার হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী মেতে উঠেন এ উৎসবে। মাছ ধরার এ উৎসবের নাম বাউৎ উৎসব।
প্রতিবছর অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি শনি থেকে মঙ্গলবার বাউৎ উৎসব হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলনবিলে এ বাউৎ উৎসবের রেওয়াজ রয়েছে। বিলের পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ পদ্ধতিতে মাছ ধরা শুরু হয়। আগে বিলে প্রচুর মাছ ছিল। এ মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই পলো দিয়ে অসংখ্য মাছ শিকারী মাছ ধরত। কিন্তু এখন মাছ কমে গেছে। ফলে বিলপারের ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে এ উৎসবে মিলিত হয়।
ধনী-গরীব ভেদাভেদ নেই এ উৎসবে। যার পলো জাল আছে, সেই নামতে পারে মাছ শিকারে। হাঁটু পানিতে পলো, বিভিন্ন প্রকার জাল নিয়ে বিলে নামেন হাজার হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী। হৈ চৈ আর চেঁচামেচিতে মুখর চারপাশ। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত মাছ তাড়া করে বেড়াচ্ছেন তারা। উৎসবে ২০ থেকে ২৫টি গ্রামসহ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। খন্ড খন্ড ভাগে এরা বিলে এসে নামছেন। যে যা মাছ পাবেন, তা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
আনন্দবাজার/এম.আর








