ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে প্রতিটা মানুষেরই পরিবারকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা থাকে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তেমনি অর্পিতারও সবাইকে ঘিরে জল্পনা-কতল্পনা ছিলো।
তবে শুরুটা মহালয়া দিয়ে হতে হতে বিষাদে রুপ নিলো। সেদিন সেজেগুজে মা, তিন বোন, চাচি ও দুই ভাগ্নিসহ যান আউলিয়া ঘাটে। নৌকাটি কিছুদূর যাওয়ার পর ডুবে যায়। এতে অর্পিতা ও তার বড় বোন আলো রানী ফিরলেও হারাতে হয়েছে পাঁচ স্বজনকে।
পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলায় নৌকাডুবির ঘটনায় বামনহাট ইউনিয়নের আরাজি শিকারপুর গ্রামের হেমন্ত রায়ের মেয়ে অর্পিতা (১৭)।
সে কালিয়াগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বোনসহ বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়েছে পরিবারের চার সদস্য। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে। বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। বুধবার সকালে অর্পিতার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান চলছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অর্পিতার আহাজারি। অপরদিকে স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হেমন্ত রায়।
হেমন্ত রায় বলেন, মহালয়া দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব আর এই শুরুটা যে এবার সারা জীবনের জন্য শেষ হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল।
মহালয়া দেখতে আমার স্ত্রী কবিতা রানী (৪০), বড় মেয়ে আলো রানী, মেজ মেয়ে অর্পিতা, ছোট মেয়ে শ্যামলী রানী (১১), ছোট ভাই বাসুদেবের স্ত্রী রুপালী (৩০), তার মেয়ে নন্দিনী (৮), নাতনি জয়া (৪) ও জ্যোতি রানী (১.৫) যায়। নদী পার হতে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেল। এতে আমার দুই মেয়ে ও এক ভাতিজি বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়ে ফিরেছে চারজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে নাতনি জয়া রানী। এমন শোক আর কারও পরিবারে না আসুক।
পুলিশ সূত্রে মতে, ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ৪০-৫০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতার নৌকায় সেদিন ছিল ১০০ জনেরও বেশি আরোহন করেন। যার ফলে নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায় বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।
যেহেতু নৌকায় যাত্রীর সংখ্যা নিশ্চিত না তাই আজও আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান ও চিকিৎসা খরচের ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
আনন্দবাজার/কআ









