গাইবান্ধার বিরান বালুচরে টমেটো চাষে সফলতার মুখ দেখছেন নারীরা। অন্যান্য সবজির পাশাপাশি নতুন করে ব্যাপকভাবে বালুচরে চাষ হচ্ছে টমেটো। চরের টমেটো দেখতে যেমন চোখে ধাঁধানো। তেমনি সুস্বাদু ও আকারে বড় হওয়ার বাজারে এর চাহিদাও বেশি। কৃষিবিভাগ বলছে, গাইবান্ধায় চরাঅঞ্চালে এবারই প্রথম টমেটো চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। পাশাপাশি অন্যরাও আগ্রহী হচ্ছেন বালুচরে টমেটো চাষে।
কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, গাইবান্ধার তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ১৬৫টি চরে এখন বিভিন্ন জাতের ফসল হয়। আগে শুধু মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা ও মরিচের আবাদ ভালো হতো চরে। তবে চর এখন বদলে গেছে। ভাষারপাড়া, চর ধুতিচোরা, চর কালাসোনাসহ অন্তত ২০টি চরে এখন অন্যফসলের সঙ্গে ব্যাপক হারে টমেটো থেকে শুরু করে নানারকম সবজির চাষ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ধু-ধু বালুচর ভাষারপাড়া, চর ধুতিচোরা, চর কালাসোনাসহ অন্তত ২০টি চরে এখন অন্যফসলের সঙ্গে ব্যাপক হারে সবজির চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, গাজরের সঙ্গে বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে টমেটোর চাষ। বগুড়া পল্লীউন্নয়ন একাডেমীর সহযোগিতায় মেকিং মার্কেট ওয়ার্ক ফর দি চর-এই প্রকল্পের আওতায় চরে চাষিদের সংগঠিত করে বীজ সরবাহের মাধ্যমে এবার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো, দামও ভালো। কৃষকের জমি থেকে বেপারীরা ২০ থেকে ২২ টাকা কেজিতে কিনে নিয়ে যাচ্ছে টমেটো। এতে কৃষকরা মহাখুশি। এছাড়া স্থানীয় দরিদ্র নারীরা টমেটোর জমিতে কাজ করে প্রতিদিন অন্তত ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা হাতে পাচ্ছে। তা ছাড়াও স্বামীরা কাজ করছেন অন্যজমিতে। তাদের পরিবারে আয়ের পরিমান অনেক বেড়েছে।
গিদারী ইউনিয়ের সাইফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ধু ধু বালুচর এখন সোনারচর। এখানে সোনা ফলে। এমন কোনো সবজি নেই যে হয়না। চরের বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। কেরোসিন তেল, সোয়াবিন তেল, আর লবন কিনতে চর থেকে শহরে আসতে হয় চরের মানুষকে। তাছাড়া চরে সবই পাওয়া যায়।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর যুগ্ম পরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামানিক বলেন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর সহযোগিতায় মেকিং মার্কেট ওয়ার্ক ফর দি চর-এ প্রকল্পের আওতায় চরে চাষিদের সংগঠিত করে বীজ সরবাহের মাধ্যমে এবার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। লাল ও সবুজ টসটসে টমেটো চরবাসির ভাগ্যবদলে দিয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক খলিল আহম্মেদ জানান, চরে অনেক সবজি চাষ হয়। তবে তারা বাজার পায়না । ফলে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য পায়না।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর বালুচর থেকে শুরু করে গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর ১৬৫ চরে এখন বিভিন্ন জাতের ফসল। আগে শুধু মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা ও মরিচের আবাদ ভালো হতো চরে। তবে চর এখন বদলে গেছে। ভাষারপাড়া, চর ধুতিচোরা, চর কালাসোনাসহ অন্তত ২০ চরে এখন অন্যফসলের সঙ্গে ব্যাপক হারে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, গাজরের সঙ্গে বিশাল এলাকার দখল করে নিয়েছে টমেটোর চাষ।









