পাইকগাছায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ যাবত তলিয়ে রয়েছে বিভিন্ন সড়ক।অনেক বসতবাড়ীর উঠানের পানি এখনো সরেনি। ফলে চরম দূর্ভোগে রয়েছে এসব এলাকার বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাসনে পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার গত দুই দশকে পৌর এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এখনো উন্নত হয়নি পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা রয়েছে অসম্পন্ন। কোন ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নদী কিংবা খালের সঙ্গে সংযোগ নাই। আবার কোন ওয়ার্ডের ড্রেনেজ অল্প একটু করার পর অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোন কোন জায়গার ড্রেন ময়লা ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। আবার কোথাও পানি নিষ্কাসনের কোন ব্যবস্থায় নাই। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হতে না হতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মৌসুমের শুরুতেই টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড, ৪নং ওয়ার্ড, ৫নং ওয়ার্ড, ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মোঃ আব্দুল গফফার মোড়ল জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মজিদ গাজী, রহিম গাজী ও বরকত গাজীর বাড়ীর আশপাশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রদীপ সরকার জানান, ভারী বর্ষণে ৯নং ওয়ার্ডের গাজী হ্যাচারী ও এর আশপাশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ময়লা আবর্জনায় ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ড্রেনের সঙ্গে নদী কিংবা খালের কোন সংযোগ না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কবর খানা রোডটি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ বসতবাড়ীর উঠানের পানি এখনো সরেনি। ফলে আমরা চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছি।
৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এসএম ইমদাদুল হক জানান, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মাঝের এলাকার পানি দুই দিক দিয়ে নিষ্কাসন হয়ে থাকে। ৯নং ওয়ার্ডের অংশ দিয়ে স্বাভাবিক নিষ্কাসন হলেও ৮নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এলাকার নিষ্কাসন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী নেয়ামুল হুদা কামাল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার ভিতর দিয়ে পানি নিষ্কাসনের জন্য একটি মিনি গেইট আছে। গেইটটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দেখভাল করে থাকে। গেইটের একটি পাইপ দীর্ঘদিন সরে যাওয়ায় পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পাউবো’র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অনেকটাই উদাসিন। আবার সংশ্লিষ্ট গেইটটি আমাদের পৌরসভার দায়িত্বে না থাকায় আমরাও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছি না। গেইটটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হতো বলে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নত ড্রেন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন। যেভাবে হোক, যে ব্যবস্থাপনায় হোক জলাবদ্ধ এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাসন করা হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসী।
আনন্দবাজার/এফআইবি








