বগুড়ার আদমদীঘিতে গভীর রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাহবুবুর রহমান (৩২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এসময় মোটরসাইকেল চালক মহাতাব হোসেন জ্ঞান হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে ছিলেন। নিহত মাহবুবুর উপজেলার শিবপুর গ্রামের গোলাম মোর্তুজার ছেলে। গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় আদমদীঘি-ছাতিয়ান গ্রাম সড়কের ছোট আখিড়া গ্রামের গভীর নলকূপ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘মোহাতাব সাইকেল স্টোরের মালিক মোহাতাব হোসেন প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও দোকান বন্ধ করেন। এরপর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মচারিদের নিয়ে পিকনিক করেন। পিকনিক শেষে তিনি ওয়েলডিং মিস্ত্রি মাহবুবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে মুকুল নামের অপর এক কর্মচারিকে কাল্লাগাড়ি গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। গভীর রাতে ফেরার পথে আদমদীঘি-ছাতিয়ানগ্রাম সড়কের ছোটআখিড়া গ্রামের গভীর নলকূপের পাশে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মহাতাব আলী ও মিস্ত্রি মাহবুবুর রহমান পাকা সড়কের উপড় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই মাহবুবুর রহমান নিহত ও চালক মোহাতাব হোসেন গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর ওই রাতেই মোহাতাব বাড়ি ফিরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান। এরপর আহত মোহাতাবকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি থানাসহ স্থানীয়দের বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে টহল পুলিশ রাতেই নিহতের লাশ এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
নিহত মাহবুবুর রহমানের বাবা গোলাম মোর্তুজা প্রাথমিকভাবে থানায় একটি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, ওই স্থানে রাস্তার দুই পাশের গাছের সাথে দড়ি বাঁধানো চিহ্ন (স্পষ্ট) রয়েছে। ফলে ধারনা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারিরা ঘটনাস্থলে গাছের সঙ্গে দড়ি টাঙিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে ছিনতাই চেষ্টার সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতের মাথা, গলা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন বা দাগ রয়েছে বলেও জানাগেছে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে রাতে বৃষ্টির করাণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মাহাবুবুর রহমানের মৃত্যুর পরও ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল, মোবাইল ও পকেটে থাকা টাকা পয়সা সবকিছুই পড়ে ছিল। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।









