- পুলিশের লাঠিচার্জ, গরম পানি নিক্ষেপ, হুড়োহুড়িতে আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইলের শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ফের সড়ক অবরোধ করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযুক্ত শিমরাইল-আদমজী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। রাস্তা অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো।
পরবর্তীতে শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জলকামানে গরম পানি নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ির কারনে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয় বলে শ্রমিকদের দাবি।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বেকা গার্মেন্টসে অ্যান্ড টেক্সটাইলসে অন্তত ৮ থেকে ৯শ’ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কারও দুই মাস আবার কারও তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মালিক কর্তৃপক্ষ বেতন দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো শ্রমিকেরই বেতন বুঝিয়ে দেয়নি।
আকলিমা আক্তার নামে এক নারী শ্যমিক জানান, বেতন না পাওয়ায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। কষ্টের কথা মালিক পক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। একদিকে রমজান মাস, আবার সামনে চলে আসছে ঈদ, বাড়ি ভাড়া বাকি, ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি, মালিক পক্ষ বেতন দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গোলক বলেন, বেকা গামের্ন্টসে’র শ্রমিক এর ওপর নির্যাতন মেনে নেওয়া যায়না। বেকা মালিক পক্ষ বেতন না দিয়ে বেআইনিভাবে কোম্পানী বন্ধ করে দেয়।
আগামী ১০ দিন পর ঈদ। শ্রমিকরা কি ভাবে ঈদ করবে, বেতন বোনাস পাবে কিনা এ ব্যাপারে বেপজা নীরব রয়েছে। বেপজা চাইলে ১২ ঘন্টার মধ্য বেকা কোম্পানির মালিককে নিয়ে এসে শ্রমিকদের সকল বকেয়া ও বোনাস পরিশোধ করা সম্ভব।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, বেকা গার্মেন্টস মালিক কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল ১৮ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন বুঝিয়ে দিবে।
তবে তারা এখনো পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন বুঝিয়ে দেয়নি। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানান ওসি মশিউর।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল বুধবার শ্রমিকরা দু’ঘণ্টা শিমরাইল নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে অবরোধ সরিয়ে দিনভর আদমজি ইপিজেডের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ ১৮ এপ্রিল সোমবার পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কোনো পাওনাদি করেননি।









