দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস র্যালির আয়োজন করে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওস্থ বিবিএসের সদর দপ্তর পরিসংখ্যান ভবন হতে র্যালিটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। অংশ নেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি; বিবিএসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক মোঃ দিলদার হোসেন প্রমুখ।
পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী র্যালিটি উদ্বোধন করেন। গতকাল তথ্য সংগ্রহের শুরুর দিনে ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে একযোগে বিভাগ পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৫-২১ জুন ২০২২ দেশব্যাপী দেশের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গণনাকারীগণ দেশের প্রতিটি খানায় গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে কম্পিউটার এসিস্টেট পার্সোনাল ইন্টারভিউইং (কাপি) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত শুন্য সময় থেকে দেশের প্রায় ২০ হাজার স্পট থেকে ভাসমান ও ছিন্নমুল মানুষ গণনার মাধ্যমে শুরু করেন ষষ্ঠ জনশুমারি। গতকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত ভাসমান মানুষ গণনা করা হয়। এরপর সকাল ৮টা থেকে শুমারির মূল কাজ শুরু হয়, যা ২১ জুন শেষ হবে। সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের সাহায্যে সাতদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই শুমারি পরিচালনা করবেন। ৬৩ হাজার ৫৪৮জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বকারীর মাধ্যমে এই ডিজিটাল শুমারি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে- দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যগণকে গণনা করে মোট জনসংখ্যার হিসাব নিরূপণ; দেশের সকল বসতঘর/বাসগৃহের সংখ্যা নিরূপণ; দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ; স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের নিমিত্ত তথ্য সরবরাহ; এবং জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহ।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর মাধ্যমে দেশের সকল সাধারণ খানা, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ও বস্তি খানা, ভাসমান/ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, খানার বাসগৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসগৃহের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেট সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও গণনাকারীগণ খানায় বসবাসরত সদস্যদের জনতাত্ত্বিক ও আর্থসামাজিক তথ্য, যেমন- বয়স, লিঙ্গ, খানাপ্রধানের সাথে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এবারের শুমারিতে ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবলেট ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সহজে ও সুনির্দিষ্টভাবে শুমারির গণনা এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং কোন খানা গণনা থেকে বাদ না পড়া বা একাধিকবার গণনা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষে ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ম্যাপ ব্যবহার করে সাময়িকভাবে নিযুক্ত গণনাকারীগণ (প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার) নির্ধারিত গণনা এলাকার প্রতিটি বাসগৃহ, খানা ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করবেন। ডিজিটাল এ শুমারি বাস্তবায়নে সারাদেশে একযোগে তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবলেটসমূহ সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাজীপুর কালিয়াকৈরে স্থাপিত বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডে (বিডিসিসিএল) সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
শুমারির তথ্য-উপাত্তের গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে তিন ধাপে ০৪ দিন করে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মনিটরিং কর্মকর্তা ও মাস্টার ট্রেইনারগণের (বিভাগীয় ও জেলা শুমারি সমন্বয়কারী) প্রশিক্ষণ বিবিএস সদর দপ্তরে; দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী, জোনাল অফিসার ও আইসিটি সুপারভাইজারগণের প্রশিক্ষণ জেলা পর্যায়ে এবং তৃতীয় ধাপে গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ০২ পর্বে জোন পর্যায়ে (উপজেলা/পৌরসভা/ইউনিয়ন/ওয়ার্ড) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও বিবিএস সদর দপ্তরে শুমারির একটি কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে যা গত ৩০ মে ২০২২ হতে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টা খোলা রয়েছে। কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬০২৯৯৮৮৭৭। কল সেন্টারে ফোন করে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি শুমারিতে নিয়োজিত বিভিন্ন স্তরের কর্মীগণ কারিগরি ও সাধারণ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে প্রয়োজনীয় সমাধান গ্রহণ করতে পারেন।
আনন্দবাজার/টি এস পি









