সত্তর বছর বয়সী আজিম উদ্দীন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার কৃষ্ণনগর গ্রামে। সেখানে একখণ্ড জায়গায় বসত বাড়ি গড়ে স্ব-পরিবারে সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন। গত ১৬ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী, মেয়ে, জামাই ও নাতনিকে হারাণ। একসঙ্গে পরিবারের সকল সদস্যদের হারানোর শোকে কাতর আজিম পাগল প্রায় হয়ে যান। এরপর খাবারের অভাব আর শূণ্য বাড়িতে তার আর মন টেকেনি।
নিঃস্ব এ মানুষটির ঠিকানা এখন সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে। মানুষের দয়ায় দিন চলে, রাত হলে ঘুমান প্ল্যাটফরমে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আজিম উদ্দীন শুধু স্টেশনে একা নন, তাঁর মতো আরও অনেকেই যুক্ত এ তালিকায়। তাদের কারো ঘর-পরিজন কিছুই নেই। কেউ প্রতিবন্ধী, কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন। এসব মানুষের এখন প্রধান আশ্রয়স্থল এ রেলওয়ে স্টেশন। সেই জংশনে শুক্রবার রাতে এসব অভুক্ত মানুষদের ক্ষুধার কষ্ট কিছুটা লাঘবে এগিয়ে আসে কালের কন্ঠ-শুভসংঘ’র বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা শাখার বন্ধুরা।
১৮বছর ধরে প্ল্যাটফরমে আশ্রয় নেয়া ময়মনসিংহ থেকে আসা রোকেয়া, তার প্রতিবন্ধী মেয়ে রোজিনা, লালমনিরহাট পাটগ্রামের বুবি, হিলির সোনিয়া ও মোজামসহ শতাধীক মানুষের হাতে রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া হয়। খাবার পেয়ে তারা জানান, অনেক দিন পর রাতের বেলা ভালো খাবার পেয়ে আমরা অনেক খুশি। আমাদের খোঁজ কেউ রাখেনা। আজ যারা আমাদের রাতের খাবারের ব্যাবস্থা করেছেন আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।
খাবার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, কালের কন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি ও শুভসংঘের উপদেষ্টা তরিকুল ইসলাম জেন্টু, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সাইফ হাসান খান সৈকত, আবু সাঈদ সাগর, ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা, শুভসংঘের আদমদীঘি উপজেলা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব তুহিন, যুগ্ম সম্পাদক আশিকুজ্জামান ছোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম শাকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনি সুলতানা, কোষাধ্যক্ষ এসএম রুবেল হোসেন, নারী বিষয়ক সম্পাদক শাকিলা আক্তার, কার্যকরী সদস্য রঞ্জন রায় ও মাইন প্রমুখ।









