করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে দেড়লাখেরও বেশি মানুষ বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার কয়েক লাখ মানুষ সুস্থও হয়ে উঠেছেন, যাদের মধ্যে আছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। এমনই এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর বাংলাদেশী করোনা থেকে সেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হলো।
চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বেশিরভাগ ঘরে বসেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু তার জন্য মানতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। করোনায় আক্রান্ত হলে কেমন লাগে? সেরে উঠতে হলে কী কী করতে হয় এমন সব তথ্য জানিয়েছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।
করোনা থেকে সুস্থ হওয়া একজন শরীয়তপুরের ঘয়গর খলিফা কান্দি শৌলপাড়া শফিউদ্দিন এর ছেলে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসানূর রহমান । মসানূর গত ১৬ এপ্রিল তার শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে ২০ এপ্রিল থেকে ১৯ দিন আইসোলেশন থাকার পর ৯ মে আইসোলেশন সেন্টার তানজং পাগার তাকে সুস্থ ঘোষণা করে।
তিনি বলেন সিঙ্গাপুরের মানুষদের থেকে আমি প্রতিদিন শিখছি, প্রবাসীদের প্রতি তাদের বিনয়ী মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে, এটা আরো বেশি বুঝতে পেরেছি যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি। এখানকার ডাক্তার, নার্স, এসেনশিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার তাকে ভালো মতো দেখাশোনা করেছে।
আইসোলেশনে আনন্দঘন সময়ে বুঝতেই পারিনি আমি অসুস্থ। ডাক্তার, নার্সরা নিয়মিত সেবা দিয়েছে। প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে আমাদেরকে নাচতে হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ফ্রি মোবাইল ডাটা দেওয়া হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে কোনো কিছুরই কোনো ধরণের কমতি ছিলো না। এসব কিছুই মন ভালো করে দেয়। ওইখানে আমি ১৯ দিন থাকি তারপরে আমাকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক কষ্ট ও কিভাবে সেরে উঠছেন তা তুলে ধরে তিনি বলেন প্রথমে হালকা ব্যথা ও জ্বর অনুভব করছিলাম। তিনদিন পর্যন্ত প্রচণ্ড বাজে অবস্থা ছিলো। তিনদিন পর যেটা হলো ওটা মনে হচ্ছিলো সবকিছু ছাড়িয়ে যাবে। হঠাৎ করে গলা ব্যাথা শুরু হলো। চারদিনের দিন আমার জ্বরটা এতো তীব্র ছিলো সকালে উঠে যখন পানি খাওয়া প্ল্যান করলাম আর ভাবলাম ওয়াশরুমে যাবো। কিন্তু ওয়াশরুমে যেতে পারিনি। মেঝেতে পড়ে যাই। তখন বুঝতে পারলাম জ্বরের তীব্রতার জন্য মেঝেতে পড়ে গেছি।
তার আগে কখনো এত জ্বর হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম তিনদিন আমি খাবার খাই। কিন্তু মুখে কোনো স্বাদ পাই না। কিন্তু আমি খেয়ে গেছি। কারণ আমি জানি আমাকে খেতে হবে। পরের তিন চারদিন মনে হয় যেন কলিজাটা কেটে ফেলছে। গলার ভেতর কেউ যেন সুঁই ফুটিয়ে দিচ্ছে। শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যথার তীব্রতা এত বেশি ছিলো যে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়তো।
ঘরে থেকেও কিভাবে নিজেকে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ডাক্তারের কাছে যাইনি অনেক বছর। আমার সবসময় মনে হতো আমি ফিট। করোনা আমাকে ধরার কথা না চিন্তাই করিনি।করোনাভাইরাসটা এমনই এটা কোনো ব্যপার না। আপনি কতটা ফিট, আপনি যতই অ্যাকটিভ হোন যে কেউ এটা দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
মুসানূর রহমান বলেন, প্রথম ১০- ১২দিন দিনে তিনবারে সাত-আটটা প্যারাসিটামল খেতাম। লেবু কেটে নিয়ে গরম পানি খেতাম গরম ভাব নিতাম পাশাপাশি ভিটামিন সি খেয়েছি। আমার চিকিৎসক বলছিলো, যদি প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভুগলে তাদের সাথে যোগাযোগ করি। অন্যথায় যোগাযোগ করে লাভ নাই। এখানে এনএইচএস চাপে আছে। তারা এখন গুরুতর রোগীদের দেখছে।
সবার সুস্থতা কামনা করে সবার উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার ঘোর শত্রুও যেন এটায় (করোনা) আক্রান্ত না হয়। যদি কারো হয় অনুরোধ করবো অবশ্যই তরল খাবার খাবেন। এটা হতে পারে জুস, পানি যা খুশি। এতে আপনি ৭০ ভাগ সেরে যাবেন। এখানে আপনি কতটা বয়স্ক এটা কোনো ব্যাপারই না।
শ্বাসনালীর ব্যায়াম শ্বাসকষ্ট কমাতে পারে এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, যখনই আমার বুকে ব্যথা করতো নিঃশ্বাস ভারী হত তখনই আমি এক দু মিনিট লম্বা করে পেট ভরে শ্বাস নিতাম। এটা তাৎক্ষণিক ওষুধের মতো কাজ করতো।
মানসিক শক্তির প্রতি জোর দিয়ে মুসানূর রহমান বলেন, আপনার এখানে (মস্তিষ্কে) যদি নিয়ন্ত্রণ থাকে যে আমাকে আমার জন্য টিকে থাকতে হবে, আমার অনেক কিছু করার বাকি আছে এটা যদি আপনার মাথায় কাজ করে আপনি তাহলে দুর্বল হবেন না। তাই মনোবলটা রাখতে হবে। আপনাকে মাথায় সেট করতে হবে যে আমাকে বাঁচতে হবে।
আনন্দবাজার/শহক








