চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হটলাইনে রোগীদের অভিযোগ পেয়ে এ অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর একটি দল। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক মো. নাজমুছ সাদাতের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংস্থাটির উপ পরিচালক আবু সাইদ এবং সহকারী পরিচালক এনামুল হক।
জানা যায়, অভিযানের শুরুতেই দুদক থেকে যাওয়া দলটি প্রশাসনিক ভবনে যায়। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় ন্যায্যমূল্যের সরকারি ওষুধের দোকানে অভিযান চালায়।
পরে দুদকের দলটি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঢোকেন। সর্বশেষ পাওয়া খবরে দুদক কর্মকর্তারা ফার্মেসির স্টোর রুমের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখেন।
কয়েক ঘন্টার দীর্ঘ অভিযান শেষে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক মো. নাজমুছ সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে মেডিকেলের ফার্মেসি এবং স্টোরের বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করে দেখা হয়। এসময় স্টোর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঔষধ সরবারাহের রেজিষ্ট্রারে বেশ কিছু গড়মিল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, কিছু কাগজপত্র এবং রেজিষ্ট্রার জব্দ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রধান কার্যালয়ে জানানো হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি জানিয়ে দুদকের এ কর্মকর্তা জানান, চমেক হাসপাতালে অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার সরকারি ওষুধ চুরির ঘটনায় হাসপাতালের গোল চত্বর থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি স্টাফ হিসেবে কর্মরত আশু চক্রবর্তী এবং আউটসোর্সিং কর্মচারী মো. সৈয়দ। এ ঘটনায় চমেকের স্টোর অফিসার ডা. মো. হুমায়ুন কবির বাদি হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
২০২০ সালের মাঝামাঝিতে শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সেই তদন্তে বেরিয়ে আসে চট্টগ্রামের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অবিশ্বাস্য সব চিত্র। তার আগেই বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবালের অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ১২ দফা অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। তাতে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফয়সল ইকবাল বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরেই ওই হাসপাতালে প্রায় ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এছাড়া তিনি চমেক হাসপাতালের নিয়োগ থেকে বদলি, কোটি কোটি টাকার খাবার সরবরাহ, আউটসোর্সিং ব্যবসা, এমনকি ঠিকাদারিসহ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন।
এমন সব অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেন দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের-২ উপ-সহকারী পরিচালক মো.শরীফ উদ্দিন। দীর্ঘ তদন্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডার, খাবার সরবরাহ, চুক্তিভিত্তিক লোক সরবরাহ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের অনিয়ম, কেনাকাটা এবং ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য মেলে। জব্দ করা হয় কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টও। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদনও দুদকে পেশ করেন শরীফ উদ্দিন। কিন্তু সেটি এখন পর্যন্ত ধামাচাপা পড়ে আছে রহস্যজনক কারণে।









