ভালুকায় কনজোক্টিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসছেন। এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার সর্বত্রই চোখের জীবানুনাশক ড্রপের সংকট দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কিছুক্ষণ পর পর চোখ ওঠা রোগীরা আসছেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, হঠাৎ করে চোখ লালছে রং ধারণ ও ব্যথা অনুভব করায় কয়েকদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। তাই চিকিৎসকের পরার্মশ নিতে এসেছেন। এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার সর্বত্রই ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পৌরসভার ঔষধের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে; কোন দোকানেই চোখে দেয়ার জীবনুনাশক ড্রপ নেই।
পৌরসভার পাঁচ রাস্তারমোড়ের সিদ্দিকিয়া মেডিক্যাল হলের মালিক ফখরুল ইসলাম জানান, গত ৪ থেকে ৫ দিন ধরে চোখ ওঠা রোগীর জন্য ব্যবহৃত সব ড্রপের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে জীবানুনাশক ড্রপ সিপ্রোফক্সিন, মক্সিফক্সাসিন, এফনিকল এবং সুপ্রাফেনসহ প্রায় সব ধরণের ড্রবই সরবরাহ বন্ধ আছে। তবে কি কারণে বন্ধ আছে, তা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।
অমিত রায় নামে এক রোগী জানান, দুইদিন ধরে তার চোখ ওঠেছে। প্রথমে বেশ জ¦ালপোড়া ও যন্ত্রনাসহ চোখ ফুলে গিয়েছিলো। সতর্কতার সাথে বাড়িতেই তিনি অবস্থান করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন বলেন, কনজোক্টিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এ রোগের জন্য তেমন ঔষধের প্রয়োজন পড়েনা। তবে সংক্রামক দূর করতে আক্রান্ত রোগী সবসময়ই কালো চশমা পড়ার পাশাপাশি খোলা হাতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকাতে হবে। তাছাড়া রোগীর ব্যবহার্য জিনিস অন্য কেউ ব্যবহার না করা, সে সাথে যেসব খাবারে এলার্জি আছে তা পরিহার করার জন্য তিনি সকলকে পরামর্শ দেন। ঔষধ সংকটের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ দেশজুড়ে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় হয়তো কোম্পানীগুলো সরবরাহ করতে পাড়ছেনা।









